ট্যাটু ও লিম্ফোমার ঝুঁকি

ট্যাটু ও লিম্ফোমার ঝুঁকি

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৯ জুন, ২০২৬

ট্যাটু আজকাল খুব জনপ্রিয়। কিন্তু সুইডেনের এক নতুন গবেষণা বলছে, ট্যাটুর সঙ্গে হয়তো এমন স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িয়ে থাকতে পারে, যা এতদিন অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি। যাদের শরীরে ট্যাটু রয়েছে, তাদের মধ্যে ম্যালিগন্যান্ট লিম্ফোমা নামে এক ধরনের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। ম্যালিগন্যান্ট লিম্ফোমা হল লসিকাতন্ত্র বা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের ক্যানসার। আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক হল লিম্ফোসাইট নামের শ্বেত রক্তকণিকা। এই কোষগুলিই নানা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু যখন এদের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন শুরু হয়, তখন তৈরি হতে পারে লিম্ফোমা। এ গবেষণায় ২০ থেকে ৬০ বছর বয়সি প্রায় ১২ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ১,৩৯৮ জন ছিলেন লিম্ফোমা রোগী। বাকিদের সঙ্গে তাদের তথ্য তুলনা করে গবেষকরা দেখার চেষ্টা করেন, ট্যাটুর সঙ্গে এই ক্যানসারের কোনও সম্পর্ক আছে কি না। দেখা গেছে, ট্যাটু করা মানুষের মধ্যে লিম্ফোমার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ডিফিউজ লার্জ বি-সেল লিম্ফোমা এবং ফলিকুলার লিম্ফোমার মতো কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট। কিন্তু একটি ট্যাটু কীভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে? উত্তর লুকিয়ে থাকতে পারে ট্যাটুর কালিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ট্যাটু ইঙ্কে ভারী ধাতু, পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন (PAH) এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে, যা ক্যানসার-সৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত। ট্যাটু করার সময় এই রঙ ত্বকের গভীরে প্রবেশ করানো হয়। কিন্তু সেখানেই তারা চিরকাল থাকে না। রঙের কিছু কণা শরীরের লিম্ফ নোড পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এখানেই শুরু হয় আরেক গল্প। আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এই কণাগুলিকে বহিরাগত বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন চলতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই প্রদাহই হয়তো কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ট্যাটু করানোর পর প্রথম দুই বছরের মধ্যেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এই সময়ে লিম্ফোমার সম্ভাবনা প্রায় ৮১ শতাংশ বাড়তে পারে। পরে সেই ঝুঁকি কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে যায়। ট্যাটুর আকার বা সংখ্যা এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়নি। অর্থাৎ ছোট্ট একটি ট্যাটু হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই গবেষণা ট্যাটু এবং ক্যানসারের মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখিয়েছে বটে, কিন্তু ট্যাটুই সরাসরি ক্যানসারের কারণ- এমন প্রমাণ দেয়নি। তার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। তাহলে কি ট্যাটু করা বন্ধ করে দিতে হবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ট্যাটু করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু নকশা বা সৌন্দর্যের দিক নয়, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। যেমন আমরা ধূমপান বা অন্যান্য জীবনযাত্রাগত অভ্যাসের ঝুঁকি নিয়ে ভাবি, তেমনই ট্যাটুর নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা শুরু হওয়া দরকার।

 

সূত্র: https://pmc.ncbi.nlm.nih.go v/ articles/PMC11141277 /

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + nine =