দিল্লির সবুজপত্র দূষণে ফিকে 

দিল্লির সবুজপত্র দূষণে ফিকে 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৩ নভেম্বর, ২০২৬

দিল্লির বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠল শহরের গাছপালার মধ্যেও। বায়ুদূষণের কারণে গাছের পাতায় কমে যাচ্ছে ক্লোরোফিলের পরিমাণ। শুধু তাই নয়, পাতার জল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং দূষণ প্রতিরোধী স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। দিল্লির বিভিন্ন এলাকার গাছের ওপর চালানো এক গবেষণায় এমনই চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষকেরা দিল্লির সাতটি প্রজাতির গাছের ওপর সমীক্ষা চালান। আনন্দ বিহার ও এনটিপিসি বদরপুরের মতো অত্যন্ত দূষিত এলাকার সঙ্গে তুলনা করা হয় অপেক্ষাকৃত কম দূষিত লুটিয়েন্স দিল্লি/নয়াদিল্লী ও পুসা এলাকার গাছগুলির। নিম, অর্জুন, অশ্বত্থ, অমলতাস/সোঁদাল, সপ্তপর্ণী, দেবদারু এবং পাকুড় গাছ—এই সাত প্রজাতির গাছের পাতা বিভিন্ন ঋতুতে সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, দূষণের সঙ্গে গাছের পাতার সবুজ রং এবং খাদ্য তৈরির ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পাতার সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে। কিন্তু আনন্দ বিহারে প্রতি গ্রাম তাজা পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ মাত্র ১.০৬ মিলিগ্রাম। বদরপুরে তা ১.১৪ মিলিগ্রাম। অথচ পুসা ও নয়াদিল্লিতে এই পরিমাণ যথাক্রমে ৩.৩১ ও ৩.১১ মিলিগ্রাম।

পাতার জলীয় উপাদানও দূষিত এলাকায় তুলনামূলক কম। পুসায় পাতার আপেক্ষিক জলীয় পরিমাণ ৮৮.৭৮ শতাংশ হলেও আনন্দ বিহারে তা ৮৫.৯৬ শতাংশ। একইভাবে, উদ্ভিদকে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্যকারী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের পরিমাণও কম দূষিত এলাকার গাছগুলিতে বেশি পাওয়া গেছে।

গাছের দূষণ সহ্য করার ক্ষমতা যাচাই করতে গবেষকেরা ‘এয়ার পলিউশন টলারেন্স ইনডেক্স’ (এপিটিআই) ব্যবহার করেন। ক্লোরোফিল, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, পাতার পিএইচ এবং জলীয় উপাদানের ভিত্তিতে নির্ধারিত এই সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নিম (১৪.৫২)। এরপর অমলতাস/সোঁদাল (১৩.৫০) ও দেবদারু (১৩.৩৭)। অন্যদিকে, সপ্তপর্ণীর স্কোর মাত্র ৯.৮২, যা সাতটি প্রজাতির মধ্যে সর্বনিম্ন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, তুলনামূলক কম দূষিত নয়াদিল্লি ও পুসায় গাছের গড় এপিটিআই স্কোর যথাক্রমে ১৩.৫০ ও ১৩.৪৭। আনন্দ বিহার ও বদরপুরে তা নেমে হয়েছে ১১.৮৭ ও ১২.০১।

গবেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চল ও ব্যস্ত সড়কের পাশে সবুজ বলয় তৈরির ক্ষেত্রে নিম, অমলতাস/সোঁদাল ও দেবদারুর মতো দূষণ-সহনশীল প্রজাতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। গবেষণাটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে বায়ো ওয়েব কনফারেন্সেস পত্রিকায়।

এই সমীক্ষা অনুসারে, বায়ুদূষণ শুধু মানুষের শ্বাসকষ্টের কারণ নয়, গাছের স্বাভাবিক জীবনশৈলীতেও নীরবে আঘাত হানছে। যে গাছ শহরের বাতাসকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে, সেই গাছগুলিকেই বাঁচিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন আরও সচেতন পরিকল্পনা।

 

সূত্র: Delhi’s toxic air does not even spare trees, chlorophyll plunges in polluted areas, study finds, Published 28.10.26, 03:03 PM.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 3 =