প্রতি বছর ২২ শে এপ্রিল ধরিত্রী দিবস পালিত হয়। প্রায় ৫০ বছর কি তারও আগে ‘আর্থ ডে’ শুরু হয় এক তীব্র গণপ্রতিবাদ হিসেবে। লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে দাবি তুলেছিলেন, দূষণ বন্ধ করতে হবে, পৃথিবীকে বাঁচাতে হবে। তখন নদীতে বিষাক্ত বর্জ্যে আগুন লাগত। শহর ঢেকে থাকত ধোঁয়ায়, আর পরিবেশ ধ্বংস ছিল চোখে দেখা বাস্তবতা। ১৯৭০ সালের সেই আন্দোলনের চাপেই যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ওঠে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা । পাস হয় ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’। তাছাড়া এরই মতন গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেকগুলি আইন। প্রথম আর্থ ডে-এর মূল শক্তি ছিল সম্মিলিত জনচাপ। তখন ব্যক্তিগত অভ্যাস বদল নয়, নীতিগত পরিবর্তনের দাবিই ছিল কেন্দ্রীয় দাবি। ১৯৯০-এর দশকে আর্থ ডে- বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ১৪০টিরও বেশি দেশে পালিত হতে শুরু করে। পরিবেশ সচেতনতা ঢুকে পড়ে ঘর, স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও সমাজজীবনে। রিসাইক্লিং, গাছ লাগানো, শক্তি সাশ্রয়- এসব হয়ে ওঠে দৈনন্দিন অভ্যাস। এর সঙ্গে গুরুত্ব বাড়ে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের উপর। আর কিছুটা আড়ালে চলে যায় বড় শিল্প ও সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন। গত দুই দশকে ধরিত্রী দিবসের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন। এখন সমস্যা শুধু দূষণ নয়। বাড়ছে তাপমাত্রা, ঘন ঘন হচ্ছে দাবানল, বন্যা, ঝড়, তাপপ্রবাহ। ভবিষ্যতের আশঙ্কা আজকের বাস্তবতা। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তুলছে। ফলে আর্থ ডে এখন শুধু সচেতনতার দিন নয়, জরুরি উদ্যোগের আহ্বানও। আজ আর্থ ডে এক দ্বৈত বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। একদিকে মানুষকে বলা হচ্ছে, অপচয় কমান, টেকসই পণ্য ব্যবহার করুন, পরিবেশবান্ধব জীবন যাপন করুন। অন্যদিকে স্পষ্ট হচ্ছে, বড় বড় সংকটের মূলে আছে জ্বালানি, শিল্প, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। একা ব্যক্তির পক্ষে এ জিনিস বদলানো সম্ভব নয়। তাই এখন আর্থ ডে-এর নতুন পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে বাস্তব সমাধান। যেমন, জলাভূমি রক্ষা, যা কার্বন ধরে রাখে ও বন্যা কমায়; পরাগবাহীদের সংরক্ষণ, যা কৃষিকে শক্তিশালী করে; এবং প্রকৃতিনির্ভর সহজ সমাধান। আর্থ ডে-এর যাত্রা তাই শুধু উদযাপনের নয়। এটি প্রতিবাদ থেকে আন্দোলন, আন্দোলন থেকে অভ্যাস, আর এখন সমাধানের পথে এগিয়ে চলার ইতিহাস। সচেতনতা জরুরি, কিন্তু সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখনও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: Earth . com ; April, 2026
