গত একশো বছরে সাধারণত দেখা গিয়েছে, এক প্রজন্মের তুলনায় পরবর্তী প্রজন্মের বুদ্ধি ও যুক্তির পরীক্ষায় নম্বর একটু একটু করে বাড়ে। এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘ফ্লিন এফেক্ট’। উন্নত পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ভালো পরিবেশের কারণে প্রতি দশকে গড়ে প্রায় তিন পয়েন্ট করে নম্বর বাড়ে। কিন্তু ছবিটা এখন বদলাচ্ছে। নরওয়ে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় নেওয়া পরীক্ষার তথ্য বলছে, ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি যারা জন্মেছে তাদের গড় নম্বর কমতে শুরু করেছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ, ব্রিটেন এবং আমেরিকার বড় কিছু গবেষণাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তি, সমস্যা সমাধান এবং সংখ্যাভিত্তিক কিছু পরীক্ষায় আগের প্রজন্মের তুলনায় জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের গড় ফল কিছুটা কম। তবে সব ধরনের দক্ষতায় যে এরকমই ফল তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে আবার বোঝার ক্ষমতায় উন্নতিও দেখা গেছে। গবেষকদের মনে হচ্ছে, আসলে এ ব্যাপারে জিনের বদল নয়, বরং পরিবেশ ও জীবনযাপনের পরিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার ধরন বদলে যাওয়া, মৌলিক কিছু দক্ষতার চর্চা কমে যাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে চিন্তাভাবনার ধরন বদলানো প্রভৃতি হয়তো এর কারণ। যদিও এর অর্থ এ নয় যে নতুন প্রজন্মের বুদ্ধি কমে যাচ্ছে। পরিবর্তনটি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং সব ধরনের মানসিক দক্ষতায় এ পরিবর্তন একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। তবু একশো বছর ধরে চলা ‘ফ্লিন এফেক্ট’-এর উল্টো স্রোতের এই পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: Bratsberg, B., & Rogeberg, O. (2018). Flynn effect and its reversal are both environmentally caused. Proceedings of the National Academy of Sciences, 115(26), 6674–6678.
