আধুনিক মানুষের নিকটাত্মীয় বিলুপ্ত মানবপ্রজাতি নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। গবেষক জাস্টিনা মিশকিয়েভিচ-এর নেতৃত্বে নতুন এক গবেষণা বলছে, জন্মের আগে নিয়ান্ডারথাল ভ্রূণের শারীরিক বিকাশ আধুনিক মানব ভ্রূণের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। অর্থাৎ, নিয়ান্ডারথালদের যে বৈশিষ্ট্যগুলি তাদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছিল, তার বেশিরভাগই জন্মের পর বিকশিত। দক্ষিণ জার্মানির বাভারিয়ার সেসেলফেলসগ্রোটে গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া অতি ক্ষুদ্র হাড়ের টুকরো বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে। গবেষকরা তিনজন অল্পবয়সি নিয়ান্ডারথালের অবশেষ পরীক্ষা করেন। ডিএনএ বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, ‘সেসেলফেলসগ্রোটে-১’ নামে চিহ্নিত একটি ভ্রূণ সত্যিই নিয়ান্ডারথাল। গর্ভাবস্থার প্রায় আট থেকে নয় মাস বয়সি এই ভ্রূণের মাত্র ১২টি ক্ষুদ্র হাড়ের টুকরো পাওয়া গেছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা দেখেছেন, ভ্রূণটির হাড় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং তার গঠনের সঙ্গে আধুনিক মানব ভ্রূণের শেষ পর্যায়ের বিকাশের অত্যন্ত মিল রয়েছে। হাত ও পায়ের লম্বা হাড় কিছুটা বেশি পরিণত হলেও, সেটি স্বাভাবিক জৈবিক বিকাশের অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় বিশ্লেষণ করা আরও দুটি নিয়ান্ডারথাল শিশুর দুধদাঁতে এমন কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি নিয়ান্ডারথালদের মধ্যে বিকাশজনিত সমস্যার প্রাচীনতম প্রমাণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নিয়ান্ডারথাল ও আধুনিক মানুষের বিকাশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল থাকলেও, জন্মের পর থেকেই তাদের বিকাশের পথ আলাদা হয়ে যায়। এই গবেষণা মানব বিবর্তন ও নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে আধুনিক মানুষের সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
সূত্র: Early development of Neanderthals revealed through virtual microanatomy ; Earth . com ; July ; 2026
