নিয়ান্ডারথালরা আসলে হয়তো কখনও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি—অন্তত জিনগত অর্থে। সাম্প্রতিক একটি গাণিতিক মডেলভিত্তিক গবেষণা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। এতদিন মনে করা হতো, প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিযোগিতা বা সংঘর্ষের কারণে নিয়ান্ডারথালদের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, তাদের সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ার বদলে তারা ধীরে ধীরে আধুনিক মানুষের (হোমো স্যাপিয়েন্স) জনসমষ্টির মধ্যে মিশে গিয়েছিল। যখন আধুনিক মানুষ ইউরোপ ও এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও আন্তঃপ্রজনন ঘটে। এর ফলে জন্ম নেয় সংকর বংশ। বহু প্রজন্ম ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকায় নিয়ান্ডারথালদের জিন বৃহত্তর স্যাপিয়েন্স জনগোষ্ঠীর মধ্যে মিশে যায়। ফলে তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় হারালেও জিন সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়নি। গাণিতিক মডেল দেখায়, কোনও পক্ষের বিশেষ বিবর্তনগত সুবিধা ছাড়াই শুধুমাত্র জনসংখ্যার মিশ্রণের মাধ্যমে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটতে পারে। বর্তমানে আফ্রিকার বাইরের অঞ্চলের মানুষের জিনোমে গড়ে ১ থেকে ২ শতাংশ নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ রয়েছে। এই জিনগুলির প্রভাব মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, ত্বকের রং এবং কিছু রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সঙ্গেও জড়িত। ফলে নিয়ান্ডারথালদের ইতিহাসকে আর শুধু ‘বিলুপ্তি’র কাহিনী হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং এটি এক ধরনের জিনগত সংমিশ্রণের কাহিনী, যার ছাপ আজও পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ তাদের শরীরে বহন করে চলেছে। এই গবেষণা মানব বিবর্তন সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এটি দেখায়, প্রাচীন মানবপ্রজাতিগুলির সম্পর্ক ছিল অনেক বেশি জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত, আর আধুনিক মানুষের উৎসও এক অর্থে বহুজাতিগত ও সংকর।
সূত্র: Science Alert ; May ; 2026
