নোবেল-বঞ্চিত শ্রীমতী চিয়েন-শিয়ুং উ 

নোবেল-বঞ্চিত শ্রীমতী চিয়েন-শিয়ুং উ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১০ অক্টোবর, ২০২৬

১৯৫৭ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান চেন নিং ইয়াং এবং সুন-দাও লি। মৌলিক কণার ক্ষেত্রে ‘প্যারিটি’ বা সমতা-নীতির লঙ্ঘন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য তাঁরা এই পুরস্কারটি পেয়েছিলেন। তাঁর আগে পদার্থবিদরা মনে করতেন, প্রকৃতির কোনও ভৌত প্রক্রিয়ার তিনটি স্থানাঙ্কের দিক উল্টে দিলে সেই প্রক্রিয়া একই থাকবে। অর্থাৎ, প্রকৃতি যেন দর্পন-প্রতিবিম্বের মতো আচরণ করবে। কিন্তু ইয়াং ও লির গবেষণা দেখাল, দুর্বল নিউক্লীয় বলের ক্ষেত্রে এই ধারণা সঠিক নয়। এই আবিষ্কার পদার্থবিদ্যার প্রচলিত ধারণায় বড় পরিবর্তন আনে।

ইয়াং ও লি তাঁদের তাত্ত্বিক গবেষণার ফল প্রকাশ করেন ১৯৫৬ সালের অক্টোবরে। পরের বছর, ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তাঁদের ধারণার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রমাণ দেন শ্রীমতী চিয়েন-শিয়ুং উ-র নেতৃত্বাধীন একদল বিজ্ঞানী। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এই বিখ্যাত পরীক্ষায় বিটা ক্ষয়ের ক্ষেত্রে প্যারিটি সংরক্ষিত হয় কি না, তা পরীক্ষা করা হয়েছিল। দেখা যায়, সমতা সত্যিই লঙ্ঘিত হয়।

এখন প্রশ্ন হল এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক প্রমাণ দেওয়ার পরও উ কেন নোবেল পুরস্কারের অংশ পেলেন না? উ ছিলেন সেই সময়ের অন্যতম বিশিষ্ট পরীক্ষাভিত্তিক পদার্থবিদ। তাঁর গবেষণা ছাড়া ইয়াং ও লির তাত্ত্বিক প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো না। তাঁর গবেষণাপত্রে তিনি ইয়াং ও লির সঙ্গে প্রেরণাদায়ক আলোচনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে উ-র নোবেল-বঞ্চনার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। কেউ মনে করতেন, এর পেছনে তৎকালীন লিঙ্গবৈষম্য কাজ করতে পারে। আবার প্রশ্ন উঠেছিল, তাঁর পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় কি নোবেল মনোনয়নের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, অথবা তিনি কি আদৌ মনোনীত হয়েছিলেন কি?

এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে ম্যাটস লারসন ও রামন ভিস ১৯৫৭ সালের নোবেল-আর্কাইভ পরীক্ষা করেন। নোবেল পুরস্কারের নিয়ম অনুযায়ী আগে মনোনয়ন ও নির্বাচনের তথ্য গোপন রাখা হতো। ১৯৭৪ সালে নিয়ম বদলে যাওয়ার পর পুরস্কারের ৫০ বছর পর সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করা হয়। ফলে ২০০৭ সালে ১৯৫৭ সালের নথি দেখার কথা থাকলেও বিষয়টি তখনও পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি।

এই নতুন অনুসন্ধানের গুরুত্ব এখানেই। উ-র নোবেল না পাওয়ার কারণকে শুধু লিঙ্গবৈষম্য বা সময়সীমা প্রভৃতি অনুমানের ভিত্তিতে দেখার বদলে, এই প্রথম সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সাহায্যে ঘটনাটির প্রকৃত ইতিহাস পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাটি বিজ্ঞানী হিসেবে উ-র অবদানের পাশাপাশি নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস, মনোনয়ন-প্রক্রিয়া এবং সেই সময়ের বৈজ্ঞানিক কৃষ্টি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে। হয়তো এবার অনেক পুরোনো এক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

 

সূত্র: https://bit.ly/3igrnm0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 20 =