প্লাস্টিক তৈরি যত সহজ হচ্ছে, তাকে ধ্বংস করা ততই কঠিন হয়ে উঠছে। বড় প্লাস্টিক ভেঙে গেলে তা মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। তারা সাধারণ ফিল্টারে ধরা পড়ে না। ফলে এই ক্ষুদ্র কণাগুলি নদী, সমুদ্র ও খাদ্যশৃঙ্খল পেরিয়ে মানুষের শরীরেও পৌঁছে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই মানবদেহের নানা অঙ্গে ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ক্যানসারসহ একাধিক রোগের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে আশার আলো দেখাচ্ছে ক্ষুদে রোবট বা ন্যানোবট। নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশেষ ধরনের ক্ষুদ্র চৌম্বক যন্ত্র জলে ঘুরে বেড়িয়ে ন্যানোপ্লাস্টিক কণাকে টেনে নিয়ে সংগ্রহ করতে পারে। এর কাজের পদ্ধতি অনেকটা স্থির বিদ্যুতের মতো, যেভাবে চিরুনিতে চুল আটকে যায়। চেক প্রজাতন্ত্রের ব্রনো ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক মার্টিন পুমেরার নেতৃত্বে তৈরি এই রোবটগুলি লোহার ভিত্তিতে তৈরি ছিদ্রযুক্ত দণ্ডাকৃতি কাঠামো। প্রতিটির প্রস্থ মানুষের চুলের সমান। ‘কার্বনাইজেশন’ প্রক্রিয়ায় এগুলিকে চৌম্বক বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়, ফলে বাইরের চুম্বকীয় ক্ষেত্র দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একই সঙ্গে গায়ে থাকে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র, যেখানে প্লাস্টিক কণা আটকে যায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এক ঘণ্টার মধ্যে চলমান রোবটগুলো মোট ন্যানোপ্লাস্টিকের ৭৮ শতাংশ সংগ্রহ করতে পেরেছে। স্থির রোবটের তুলনায় এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি কার্যকর। প্লাস্টিক সংগ্রহের পর সাধারণ চুম্বক ব্যবহার করে রোবটগুলোকে আলাদা করা যায় এবং পরিষ্কার জল বের করে নেওয়া সম্ভব হয়। পরে রোবটগুলোকে আবারও ব্যবহারোপযোগী করা যায়। তবে কয়েকবার ব্যবহারের পর এদের কার্যক্ষমতা কমে যায়। বাস্তব পরিবেশে এখনও কিছু বাধা রয়েছে। সমুদ্রের জল বা ভূগর্ভস্থ জলের লবণ ও অন্যান্য আয়নের কারণে এদের প্লাস্টিক ধরার ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া রোবটগুলোর গতি খুব ধীর, ফলে বিশাল জলাশয় পরিষ্কার করা এখনই সহজ নয়। তা সত্ত্বেও গবেষকেরা আশাবাদী। জল শোধন সংস্থাগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে শুধু পৃথিবীতেই নয়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও জল পরিশোধন ব্যবস্থায় জমে থাকা জীবাণুস্তর ও ন্যানোপ্লাস্টিক সাফ করতে এই ক্ষুদে রোবট কাজে লাগতে পারে।
সূত্র: Science; 17 Apr 2026
