পদার্থবিদ শিবাজী সোঁধির সম্মান লাভ 

পদার্থবিদ শিবাজী সোঁধির সম্মান লাভ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২০ জুন, ২০২৬

পদার্থবিদ অধ্যাপক শিবাজী সোঁধি এক বিরল সম্মানের অধিকারী হলেন। তিনি একসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মর্যাদাপূর্ণ বিদ্বৎসমাজে নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁকে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস (এনএএস)-এর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস অ্যান্ড লেটার্স (এএএসএল)-এর সদস্যপদও পেয়েছেন। ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর ওয়াশিংটনের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মানে ভূষিত করা হবে। অধ্যাপক সোঁধি বর্তমানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রুডলফ পাইয়ার্লস সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সে উইকহ্যাম অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার এমেরিটাস অধ্যাপক। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের সেরা গবেষকদের নিয়ে গঠিত এই অ-লাভ অর্জনকারী সংস্থা প্রতি বছর অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ নতুন সদস্য নির্বাচন করে। এ বছর ১২০ জন মার্কিন এবং ২৫ জন আন্তর্জাতিক গবেষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস অ্যান্ড লেটার্স আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেয়। প্রতি বছর মাত্র ৬০ জন নতুন সদস্যকে এই প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর সদস্যদের মধ্যে নোবেল ও পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। অধ্যাপক সোঁধির গবেষণার মূল ক্ষেত্র তাত্ত্বিক ঘনীভূত পদার্থবিজ্ঞান। তিনি বিশেষভাবে বহু-কণার জটিল ব্যবস্থায় নতুন ধরনের শৃঙ্খলা বা ‘অর্ডার’-এর উদ্ভব নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর অন্যতম বড় অবদান হল বাস্তব পদার্থে দুটি নতুন ধরনের অদ্ভুত কণার অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেওয়া। এর একটি হল ‘স্কাইরমিয়ন’, যা প্রবল চৌম্বক ক্ষেত্রে দ্বিমাত্রিক ইলেকট্রন গ্যাসে দেখা যায়। অন্যটি হল ‘ম্যাগনেটিক মনোপোল’, যা ‘স্পিন-আইস’ নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের পদার্থে উদ্ভূত হতে পারে। এছাড়া তিনি ‘টাইম ক্রিস্টাল’-এর ধারণার ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই বিশেষ পদার্থগুলি প্রচলিত সাম্যাবস্থায় না থেকে এক নতুন ধরনের অ-সাম্যাবস্থার পদার্থরূপ তৈরি করে। পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এই ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তাঁর গবেষণাকর্ম ইতিমধ্যেই বহু আন্তর্জাতিক সম্মানে স্বীকৃত হয়েছে। তিনি ম্যাকমিলান পুরস্কার, স্লোন ও প্যাকার্ড ফেলোশিপ, হামবোল্ট পুরস্কার এবং ইউরোফিজিক্স প্রাইজ ফর কনডেন্সড ম্যাটার ফিজিক্স পেয়েছেন। এছাড়া তিনি আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো এবং গত বছর রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। সম্মান প্রসঙ্গে অধ্যাপক সোঁধি বলেন, “আমি একজন মার্কিন প্রবাসী হিসেবে এই দুই বিদ্বৎসমাজের স্বীকৃতি পেয়ে গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি। একই সঙ্গে এটা জেনে ভালো লাগছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে আমার সহকর্মীরা এখনও আমাকে ভুলে যাননি।” অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যান্ড্রু বুথরয়েড বলেছেন, “শিবাজী সোঁধি বিশ্বের দুটি শীর্ষ বিদ্বৎসমাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা তাঁর অসামান্য গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তার যথার্থ মূল্যায়ন।”

 

University of Oxford ; Dept. Of Physics ; June ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × five =