প্রায় একশো বছর ধরে পৃথিবীর কাছাকাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে ছোট্ট এক মহাজাগতিক পাথর কামোয়ালেওয়া। এবার তার কাছে গিয়ে নতুন তথ্য সংগ্রহ করেছে চিনের মহাকাশযান তিয়ানওয়েন-২। ২০২৫ সালের মে মাসে মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার পর প্রায় ১০০ কোটি কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ৪০০ দিন ধরে যাত্রা করে যানটি। গত জুলাইয়ে কামোয়ালেওয়ার মাত্র ২০ কিলোমিটার কাছে পৌঁছে তার ছবি তোলে। এত কাছ থেকে এর ছবি এর আগে পাওয়া যায়নি। কামোওয়ালেওয়াকে অনেক সময় পৃথিবীর ক্ষুদে চাঁদ (‘মিনি-মুন’) বলা হয়। তবে এটি আসলে চাঁদের মতো পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে না। এটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর টানও তার উপর কাজ করে, তাই সেটি সবসময় আমাদের গ্রহের কাছাকাছি থাকে। এই ধরনের মহাজাগতিক বস্তুকে বলা হয় কোয়াসি-স্যাটেলাইট বা প্রায়-উপগ্রহ। কাছ থেকে ছবি পাওয়ার পর আরও একটি চমক মিলেছে। আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, কামোওয়ালেওয়া প্রায় ৪০ থেকে ১০০ মিটার চওড়া। কিন্তু নতুন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এর আকার সম্ভবত মাত্র ২০ মিটার—মোটামুটি দু’টি বাস পাশাপাশি রাখলে যতটা হয়। পাথরটির গা মসৃণ নয়, বরং এবড়োখেবড়ো, অসমান। সমতল জায়গাও খুব কম। তার উপর এটি মাত্র ২৮ মিনিটে একবার নিজের চারদিকে পাক খায়। ফলে এর মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা বেশ কঠিন হবে। নিরাপদ জায়গা খুঁজতে তিয়ানওয়েন-২ আরও পরীক্ষা চালাবে। কামোয়ালেওয়া কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়েও রয়েছে বড় রহস্য। একসময় বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, এটি বহু আগে চাঁদের সঙ্গে কোনও মহাজাগতিক বস্তুর ধাক্কায় ছিটকে বেরিয়ে আসা পাথরের টুকরো। কিন্তু নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সূর্যের আলো কামোয়ালেওয়ার গায়ে পড়ে যেভাবে প্রতিফলিত হয়, তা চাঁদের পাথরের সঙ্গে ঠিক মেলে না। তাই এটি চাঁদের অংশ না হয়ে গ্রহাণু বলয় থেকে আসা কোনও পাথর হতে পারে। তবে শেষ কথা বলবে নমুনা পরীক্ষা। পরিকল্পনা সফল হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে কামোয়ালেওয়ার পাথর পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। এরপর তিয়ানওয়েন-২ পৃথিবীর মহাকর্ষকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাবে 311P/PanSTARRS-এর দিকে। এই অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তুটির মধ্যে গ্রহাণু এবং ধূমকেতু দু-এরই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অর্থাৎ, পৃথিবীর পাশ দিয়ে এতদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো ছোট্ট এই পাথরটি আসলে কোথা থেকে এসেছে, তার উত্তর হয়তো খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে।
সূত্র: Space News Space Facts, 16 August 2026
