পৃথিবীর গভীরতম স্থান ঠিক কতটা গভীর? 

পৃথিবীর গভীরতম স্থান ঠিক কতটা গভীর? 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চ্যালেঞ্জার ডিপ। কিন্তু সেটি ঠিক কতটা গভীর? তার উত্তর এখনও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এখানকার তথ্য পাঁচভাবে বিশ্লেষণ করলে গভীরতার হিসাবে প্রায় ১৮ মিটার বা ৫৯ ফুট পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পোলার রিসার্চের গবেষক মাসাকাজু ফুজি ও তাঁর সহকর্মীরা ২০২৩ সালে নতুন ইকোসাউন্ডার দিয়ে চ্যালেঞ্জার ডিপের মানচিত্র তৈরি করেন। পরে একই তথ্য পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়। যন্ত্র একই থাকলেও সমুদ্রের বিভিন্ন স্তরে শব্দ কতটা দ্রুত ছড়ায়, সেই হিসাব বদলানোর ফলে গভীরতা হিসাবও বদলে যায়। সমুদ্রের জলে শব্দের গতি সর্বত্র এক নয়। জলের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও চাপের সঙ্গে তা পরিবর্তিত হতে থাকে। ইকোসাউন্ডার যন্ত্রটির সাহায্যে সমুদ্রের তলায় শব্দ পাঠিয়ে তা ফিরে আসতে কত সময় লাগছে, তা মাপা হয়। আর সেই মাপ থেকেই এর গভীরতা হিসাব করা হয়। তাই শব্দের গতির হিসাব সামান্য বদলালেও গভীরতার মাপ বদলে যেতে পারে। গবেষকদের পছন্দের হিসাব অনুযায়ী, চ্যালেঞ্জার ডিপের গভীরতম অংশ ৩৫,৮৫০ ফুট বা ১০,৯২৭ মিটার। তবে তাঁরা এটিকে চূড়ান্ত রেকর্ড হিসেবে দাবি করেননি। পাঁচটি ভিন্ন শব্দ-গতি ধরে হিসাব করলে গভীরতা দাঁড়ায় ১০,৯১৪ থেকে ১০,৯৩২ মিটারের মধ্যে। তাছাড়া চ্যালেঞ্জার ডিপের তলদেশও আগাগোড়া সমতল নয়। সেখানে তিনটি গভীর অববাহিকা রয়েছে, যেগুলির মধ্যে উঁচু অংশ বা রিজও রয়েছে। নতুন মানচিত্রে পূর্ব দিকের গভীরতম অববাহিকাটি ১০,৯২৭ মিটার গভীর। এর আগেও বিভিন্ন গবেষণায় এর ভিন্ন ভিন্ন গভীরতার হিসাব পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালের একটি সমীক্ষায় প্রায় ১০,৯৮৪ মিটার, ২০১৭ সালে প্রায় ১০,৯২৫ মিটার এবং ২০২০ সালে সাবমার্সিবল দিয়ে করা পরিমাপে প্রায় ১০,৯৩৫ মিটার গভীরতা পাওয়া যায়। এর একটি কারণ হয়তো যন্ত্রের রেজোলিউশন। গবেষণায় ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দতরঙ্গগুচ্ছ সমুদ্রতলের প্রায় ৪০০ মিটার চওড়া অংশ একসঙ্গে মাপতে পারে। ফলে তলদেশের কোনও সরু খাদ আলাদা করে ধরা নাও পড়তে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, তাঁদের ২০২৩ সালের সমস্ত তথ্য এবং হিসাবের পদ্ধতি প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নিখুঁত শব্দগতির তথ্য পাওয়া গেলে সমুদ্রে না গিয়েও এই পুরনো তথ্য নতুন করে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, পৃথিবীর গভীরতম স্থান হিসেবে চ্যালেঞ্জার ডিপের গভীরতা ‘প্রায়’ ১০.৯ কিলোমিটার—এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে তার একেবারে সঠিক গভীরতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ যেন মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা মাপার সময় যে-সমস্যা দেখা দিয়েছিল তারই মতন।

 

সুত্র: Full-ocean-depth EM124 mapping of the Challenger Deep by R/V Hakuho-maru and depth-estimate sensitivity tests- Masakazu Fujii, Chiori Tamura, et. al; Septembe

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =