পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী কণা-ত্বরণযন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (LHC)-এ প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটিয়ে ক্ষুদ্র কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও কৃষ্ণগহ্বরের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী, আমরা যে তিনটি স্থানিক মাত্রা চিনি, অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা, তার বাইরেও মহাবিশ্বে আরও কিছু মাত্রা থাকতে পারে। আর তাতে প্রচণ্ড শক্তির প্রোটন-সংঘর্ষে মুহূর্তের জন্য ক্ষুদ্র কোয়ান্টাম কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হতে পারে। তৈরি হলেও সেগুলি সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে গিয়ে নানা শক্তিশালী কণা ছড়িয়ে দেওয়ার কথা। এই সম্ভাবনার চিহ্নই খুঁজেছেন LHC-র গবেষকরা, কমপ্যাক্ট মিউন সোলেনয়েড (CMS) পরীক্ষায়। ১৩ ও ১৩.৬ টেরাইলেকট্রনভোল্ট শক্তিতে ঘটা বিপুল সংখ্যক প্রোটন-সংঘর্ষের তথ্য তাঁরা বিশ্লেষণ করেছেন। উন্নত কম্পিউটার পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষ্ণগহ্বর তৈরির সম্ভাব্য সংকেত খোঁজা হলেও অস্বাভাবিক কোনও সংকেত পাওয়া যায়নি। তবে এই ফলও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট তত্ত্ব অনুযায়ী ৯–১২ টেরাইলেকট্রনভোল্টের কম ভরের কোয়ান্টাম কৃষ্ণগহ্বর থাকার সম্ভাবনা নেই। কিছু তত্ত্বে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত স্থানিক মাত্রার সংখ্যাও এতে সীমিত হয়েছে। অর্থাৎ নতুন কোনও পদার্থ বা কণার সন্ধান না মিললেও, কোন কোন তত্ত্বের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী পরীক্ষায় তাই এই রহস্যের খোঁজ আরও নির্দিষ্টভাবে চালানো যাবে।
সূত্র: CMS Collaboration, Progress in High Energy Physics
