প্রায় ৪০৭ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর স্থলভাগে এমন কিছু বিশাল আকৃতির জীব বাস করত, যাদের আমরা আজও ঠিকভাবে চিনতে পারিনি। গাছের কাণ্ডের মতো দেখতে, প্রায় ২৬ ফুট পর্যন্ত উঁচু এই অদ্ভুত জীবগুলোর নাম প্রোটোট্যাক্সাইটিস। দীর্ঘ দেড়শো বছরের বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করে এসেছেন, এগুলো সম্ভবত প্রাচীন ছত্রাক । কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই ধারণার ভিত নড়বড়ে করে দিয়েছে।
১৮৪৩ সালে কানাডার ভূ-তত্ত্ববিদ উইলিয়াম এডমন্ড লোগান প্রথম এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন। দেখতে অনেকটা পচে যাওয়া গাছের কাণ্ডের মতো হলেও এর গঠন ছত্রাক ও শৈবালের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। সেই থেকেই শুরু হয় প্রোটোট্যাক্সাইটিস নিয়ে বিতর্ক। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে ২০২৬ সালের ২১শে জানুয়ারি প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, প্রোটোট্যাক্সাইটিসের এক প্রজাতির ছত্রাক নয়, বরং জীবনের এক সম্পূর্ণ নতুন ও বিলুপ্ত শাখা হতে পারে। এই গবেষণার অন্যতম লেখক, এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানী লরা কুপার বলেন, এ হয়তো জটিল ও বৃহৎ জীব তৈরির ক্ষেত্রে প্রকৃতির এক স্বাধীন পরীক্ষা ছিল। গবেষণার জন্য স্কটল্যান্ডের রাইনি চার্ট অঞ্চল থেকে পাওয়া একটি অত্যন্ত সুসংরক্ষিত জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করা হয়। অণুবীক্ষণে দেখা যায়, জীবটির ভেতরে অসংখ্য জট পাকানো নলাকার গঠন রয়েছে। এগুলো দেখতে ছত্রাকের পুষ্টিশোষণকারী সরু সুতোর মতো শাখা-প্রশাখাযুক্ত ‘হাইফার’ তন্তুর মতো, কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বিশৃঙ্খল এবং এর কিছু অংশ উদ্ভিদের কোষগঠনের সঙ্গে মানানসই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই জীবাশ্মে কাইটিন ও গ্লুকান নামের উপাদান অনুপস্থিত, যা কিনা ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের মূল ভিত্তি। এছাড়া এর রাসায়নিক স্বাক্ষরও আশপাশে পাওয়া অন্য ছত্রাক জীবাশ্মগুলোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এসব তথ্য একত্রে ইঙ্গিত দেয় যে প্রোটোট্যাক্সাইটিস ছত্রাক নয়।
গবেষকরা মনে করেন, প্রোটোট্যাক্সাইটিস সম্ভবত স্থলভাগের প্রথম বৃহৎ জীব ছিল। তবে তারা কীভাবে বেঁচে থাকত, কী খেত এবং কেন বিলুপ্ত হয়ে গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। জৈব পদার্থ তখন খুবই সীমিত ছিল, যা এদের টিকে থাকাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও একটি বিষয় স্পষ্ট, যে প্রোটোট্যাক্সাইটিস ছিল প্রকৃতির এক অদ্ভুত, স্বাধীন ও বিস্ময়কর সৃষ্টি, যা আজও বিজ্ঞানীদের কৌতূহল জাগিয়ে রেখেছে।
সূত্র: This Mysterious 407-Million-Year-Old Fossil May Represent a Previously Unknown Branch of Life, published in Science Advances, 23rd January 2026.
