নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে বিপুল শক্তি পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাজমার অশান্ত প্রবাহ। এই জটিল সমস্যার নতুন দিক উন্মোচন করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ ড. রিচার্ড নিস। এটি পদার্থবিদ্যায় প্রতি বছর দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডক্টরাল গবেষণা পুরস্কার। কী ছিল তাঁর গবেষণার বিষয়? সহজ করে বললে, ফিউশন রিঅ্যাক্টরের অতি উত্তপ্ত প্লাজমার ভিতরে কীভাবে অশান্ত প্রবাহ তৈরি হয় এবং তা কীভাবে শক্তি ধরে রাখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। অশান্ততা আমাদের চারপাশেও রয়েছে, সকালের কফিতে দুধ মেশার মতো সাধারণ ঘটনাতেও। কিন্তু ফিউশন রিঅ্যাক্টরের ভিতরে এই ‘অশান্ত দশা’ ভয়ংকর সমস্যা। কারণ এটি প্লাজমার তাপ বাইরে বের করে দেয়। ফলে নিউক্লিয়ার ফিউশন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এখানেই নিসের গবেষণার গুরুত্ব। ফিউশন রিঅ্যাক্টরের প্রধান দুই নকশা-টোকামাক ও স্টেলারেটর। দুটিই মোটামুটি ডোনাটের মতো। তবে টোকামাক তুলনামূলকভাবে সুষম, আর স্টেলারেটর অনেক বেশি জটিল, পাকানো ত্রিমাত্রিক আকৃতির। নিস দেখিয়েছেন, এই আকৃতিই প্লাজমার ভিতরের প্রবাহ ও অশান্ত দশার আচরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ডোনাটের বাঁকানো গঠন থেকে তৈরি প্রবাহ প্লাজমার ভিতর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং অশান্ত দশার ঘূর্ণিগুলিকে ভেঙে দিতে পারে। ফলে প্লাজমার শক্তি আরও ভালোভাবে আটকে রাখা সম্ভব হতে পারে। তাছাড়া এই প্রবাহ কতটা অশান্ত দশা তৈরি হতে দেবে, তার মাত্রা নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ ফিউশন রিঅ্যাক্টরের আকার শুধু বাইরের নকশার বিষয় নয়, প্লাজমার ভিতরে তাপ কতটা আটকে থাকবে, তারও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। বর্তমানে নিস অক্সফোর্ডের পদার্থবিদ্যা বিভাগে লেভারহুলম-পিয়ার্লস ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। এক বছরের মধ্যেই এই বিভাগের দ্বিতীয় লেভারহুলম-পিয়ার্লস ফেলো হিসেবে তাঁর ডক্টরাল গবেষণা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল। ফিউশন শক্তির ভবিষ্যৎ হয়তো শুধু আরও গরম প্লাজমা তৈরিতে নয়, সেই আগুনের ভিতরের অশান্ত দশাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার উত্তর খুঁজে পাওয়াতেও।
সূত্র: University of Oxford; September, 2026
