ফের সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু 

ফের সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৫ আগষ্ট, ২০২৬

ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তার জেরেই উত্তর, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আই এম ডি)। আইএমডির মতে, বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা শ্রীগঙ্গানগর, দিল্লি, লখনউ, ডালটনগঞ্জ ও বাঁকুড়া হয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের উপর সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং দেশের বিভিন্ন অংশে অবস্থানকারী ঊর্ধ্বাকাশীয় ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে। ফলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ব্যাপক বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে অসম ও মেঘালয়ে। এই দুই রাজ্যে অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী এবং বিচ্ছিন্ন এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। কোথাও কোথাও ২০৪.৫ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরাতেও ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বলা বাহুল্য আসামের বন্যা কবলিত চেহারা ইতিমধ্যেই অনেক প্রাণ কেড়েছে এবং সমগ্র পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নীচু এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন, কারণ সেখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তরাখণ্ডেও ফের সক্রিয় হয়েছে বর্ষা। দেরাদুন ও বাগেশ্বর জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। টানা বৃষ্টির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেরাদুন ও বাগেশ্বরের সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। চারধাম যাত্রায় বের হওয়া তীর্থযাত্রীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে, যমুনোত্রী মহাসড়ক টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য বন্ধ থাকায় যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায়ও সারাদিন আকাশ মেঘলা থাকবে এবং দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিল্লি-এনসিআরের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সকালে ও বিকেলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে, রাতেও আরও এক দফা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে। হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএমডি। অসম ও মেঘালয় ছাড়াও বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওডিশা, কোঙ্কন-গোয়া, মধ্য মহারাষ্ট্র, অরুণাচল প্রদেশ, হিমালয়-নিম্নবর্তী পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাছাড়া হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কেরল, ছত্তিশগড়, উপকূল কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। সেখানে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার এবং অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু ও উত্তর অভ্যন্তরীণ কর্নাটকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও উপকূল কর্নাটকের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আইএমডি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষকদের জমিতে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে, কীটনাশক স্প্রে আপাতত স্থগিত রাখতে এবং কাটা ফসল বৃষ্টির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গবাদি পশুকে নিরাপদ ও শুকনো জায়গায় রাখারও নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমি বৃষ্টির সক্রিয়তা বজায় থাকবে।

 

সূত্র: Down to earth ; August 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four − 2 =