ফেলে দেওয়া ঝিনুক ও অন্ত্রের প্রদাহ রোধ

ফেলে দেওয়া ঝিনুক ও অন্ত্রের প্রদাহ রোধ

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৬ জুলাই, ২০২৬

অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ আচ্ছাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা দীর্ঘদিন তাতে প্রদাহ চলতে থাকলে ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ টাইপ-২, ডায়াবেটিসসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব ফেরারা-র গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্যাসিফিক অয়েস্টার বা সামুদ্রিক ঝিনুকের সম্পূর্ণ টিস্যু থেকে তৈরি একটি নির্যাস অন্ত্রের কোষে প্রদাহ কমাতে এবং অন্ত্রের সুরক্ষাব্যবস্থাকে অক্ষত রাখতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় এমন ঝিনুক ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলি আকারে ছোট বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে বিক্রি করা যায় না, সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। পরীক্ষাগারে মানুষের অন্ত্রের কোষে কৃত্রিমভাবে প্রদাহ সৃষ্টি করার পর দেখা যায়, ওই ঝিনুকের নির্যাস প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী গুরুত্বপূর্ণ কোষীয় সংকেতকে দমন করে। সেই সঙ্গে প্রদাহ ছড়ানোর জন্য দায়ী COX-2 উৎসেচকের মাত্রাও কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এই নির্যাস অন্ত্রের কোষগুলির মধ্যকার সংযোগও অক্ষত রাখে। ফলে প্রদাহের কারণে অন্ত্রের প্রাচীরে ফাঁক তৈরি হওয়া এবং ক্ষতিকর পদার্থ রক্তে প্রবেশের ঝুঁকি কমে। গবেষকদের মতে, এই প্রভাবের পেছনে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লুটামিক অ্যাসিড, পলিফেনল ও ক্যারোটিনয়েড-সহ একাধিক জৈব সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে কাজ করছে। গবেষকদের দাবি, মানুষের অন্ত্রের কোষে সম্পূর্ণ ঝিনুকের টিস্যুর প্রদাহরোধী এমন প্রভাব এই প্রথম দেখা গেল। তবে এটি এখনও পরীক্ষাগারের গবেষণা। মানুষের শরীরে একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রাণী ও মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এই ফল নিশ্চিত হলে, বর্তমানে ফেলে দেওয়া ঝিনুক থেকেই কম খরচে অন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষায় কার্যকর ‘নিউট্রাসিউটিক্যাল’ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক ঝিনুক চাষে অপচয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

সূত্র: Food & Function; Vol-16 ; Earth . com ; July ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 10 =