বন্যা আর ব্যতিক্রম নয়, নতুন বাস্তবতা

বন্যা আর ব্যতিক্রম নয়, নতুন বাস্তবতা

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১২ অক্টোবর, ২০২৬

“বন্যার প্রকোপ এখন এক নতুন বাস্তবতা” ২০১৭ সালে, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিদ জেসন কনস একথা লিখেছিলেন। প্রায় দশক পেরিয়ে কথাটি যেন আজ আরও প্রাসঙ্গিক। কয়েক সপ্তাহ আগেও নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বান নামে ভোতে কোশি নদী বরাবর। আবারও সামনে আসে চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা। ২০২৫ সালেও বন্যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক ঘটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দুর্যোগে মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণও সেই বন্যা-ই। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া। বিশ্বব্যাংকের ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, বন্যার ঝুঁকিতে থাকা ১৮১ কোটি মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশই এই দুই অঞ্চলের। হিমালয়ও ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চিন, ভারত, মায়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের নদীগুলিতে দেখা যায় ধীরগতির নদীভাঙন, হঠাৎ হিমবাহ-হ্রদ ফেটে বন্যা (GLOF) এবং তুষারধসের মতো বিপদ। বর্ষা এলেই যার ভয়াবহতা সামনে আসছে। চলতি বছরের জুলাইয়েই অসমের একাধিক জেলা নদীর বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে, বাঁধ ও আগাম বৃষ্টির সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও। তাহলে শুধু বাঁধ দিয়ে বন্যা ঠেকানো যাবে? দশকের পর দশক ধরে সরকার ও বিজ্ঞানীরা বন্যা মোকাবিলায় বাঁধ, খাল, স্পার এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করেছেন। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে আগাম সতর্ক ব্যবস্থা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে শুধু বন্যা আটকানো নয়, কখন, কোথায় এবং কতটা ভয়াবহ বন্যা আসবে, তা অনুমান করাই ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এখন তাই বন্যা মোকাবিলার কৌশল মূলত দু পথে – জলকে মানুষের বসতি ও চাষের জমি থেকে দূরে রাখার জন্য শক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা এবং বিপদ আসার আগেই মানুষকে সতর্ক করে তাদের প্রস্তুত করা।

 

সূত্র: October 1-15, 2026 ; Down To Earth

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 10 =