শস্যের পরিমাণ বাড়ছে নিঃসন্দেহে অথচ পুষ্টিগুণ কমছে! আধুনিক গম সংক্রান্ত গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। গত কয়েক দশকে গমের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও তাতে আয়রন ও জিঙ্কের মতো জরুরি খনিজের পরিমাণ কমেছে। উপরি উদ্বেগ হিসাবে ওজেম্পিক ও মাউনজারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বাড়ায় শরীরে পুষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে। ইংল্যান্ডের রথামস্টেড রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে ১৮৪৫ সাল থেকে সংরক্ষিত গমের নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে গমে খনিজের পরিমাণ কমতে শুরু করে। আধুনিক উচ্চফলনশীল গমে আগের তুলনায় জিঙ্কের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ এবং আয়রন ২৭ শতাংশ কম পাওয়া গেছে। মাটিতে খনিজের অভাব নয়, বরং শস্যের বেশি ফলনশীল জাত তৈরির প্রবণতাই এর অন্যতম কারণ। ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চারসের (ডিএসভি) নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতদিন বেশি খাবার খেয়ে মানুষ হয়তো কিছুটা পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করছিল। কিন্তু ওজেম্পিকের মতো ওষুধ খিদে কমিয়ে দেওয়ায় খাবারের পরিমাণও কমছে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেমাগ্লুটাইড গ্রহণকারীরা প্রায় ৩৫ শতাংশ কম ক্যালোরি গ্রহণ করেছেন। ফলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ কম পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ব্রিটেনের খাদ্যাভ্যাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের ৪৫ শতাংশের সেলেনিয়াম এবং ৩৪ শতাংশ মহিলার আয়রন গ্রহণের পরিমাণ অত্যন্ত কম। তাঁদের পূর্বাভাসভিত্তিক মডেল অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করলে এবং ফসলে খনিজের পরিমাণ আরও ১৫ শতাংশ কমলে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ অন্তত একটি জরুরি পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সমাধানের পথও দেখিয়েছেন গবেষকরা। পরীক্ষায় সাধারণ সারের সঙ্গে জিঙ্ক ও আয়রন যোগ করে গমে যথাক্রমে ২৭ ও ৪১ শতাংশ বেশি খনিজ পাওয়া গেছে। উন্নত কৃষিপদ্ধতি, মাটির স্বাস্থ্যরক্ষা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলের জাত তৈরি তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ডিএসভির প্রতিবেদনটি এখনও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার মাধ্যমে যাচাই হয়নি। এর পূর্বাভাসও কম্পিউটার মডেলনির্ভর, বাস্তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ নয়। ওজন কমানোর ওষুধই পুষ্টির ঘাটতির সরাসরি কারণ, তাও এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুতরাং কতটা খাবার উৎপাদিত হচ্ছে, সেই হিসেব যথেষ্ট নয়। প্রতিটি খাবারে কতটা পুষ্টি রয়েছে, এবার গুরুত্ব দিতে হবে সেদিকেও।
সূত্র: Hollow Harvests, Earth .com ; October ; 2026
