১৯৫০-এর দশকে কয়েকটি বাদামি গেছো সাপ সম্ভবত মালবাহী জাহাজের সঙ্গে অজান্তেই প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম দ্বীপে পৌঁছে যায়। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, সাপগুলি একদিন দ্বীপটির জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে। কয়েক দশকের মধ্যে সাপগুলি দ্রুত বংশবিস্তার করতে থাকে। আজ গুয়ামের একাধিক প্রজাতির পাখি, বাদুড় ও টিকটিকির বিলুপ্তির জন্য এই সাপকে দায়ী করা হয়। বাদামি গেছো সাপের এই অস্বাভাবিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের বিশেষ কিছু জিন বৈশিষ্ট্য। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলো এবং ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের বিজ্ঞানীরা, আধুনিক লং-রিড ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাপগুলোর জিন বিশ্লেষণ করেছেন। প্রচলিত শর্ট-রিড প্রযুক্তিতে ডিএনএ-র ছোট ছোট অংশ বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে বড় জিনগত পরিবর্তন ধরা পড়ে না। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা ডিএনএ-র বড় বড় অংশে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন শনাক্ত করতে সক্ষম হন। বিশ্লেষণে বাদামি গেছো সাপের জিনে ১৯ হাজারেরও বেশি স্ট্রাকচারাল ভ্যারিয়েন্ট বা বড় ধরনের জিন কাঠামোগত পরিবর্তনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব পরিবর্তনের বেশিরভাগই ঘটেছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পরিবেশগত চাপ মোকাবিলা এবং ঘ্রাণশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত জিনে। গবেষকদের মতে, এই সাপ শিকার খুঁজতে প্রধানত ঘ্রাণশক্তির উপর নির্ভর করে। এই শক্তিশালী ঘ্রাণশক্তিই তাদের গুয়ামে সহজে শিকার খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নতুন পরিবেশে বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে টিকে থাকতে সহায়ক হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলিই সম্ভবত তাদের দ্রুত বিস্তার এবং সফল অভিযোজনের বিশেষ কারণ। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, একটি ছোট জনসমষ্টি থেকে দ্রুত বংশবিস্তার হলে জিনগত বৈচিত্র্য কমে যায়। কিন্তু এখানে দেখা গেছে, জনসংখ্যা সংকুচিত হওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে নতুন ধরনের জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি হতে পারে। প্রধান গবেষক ক্রিস্টোফার অসবর্ন বলেন, বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারছেন যে আগে অজানা কিছু জিন পরিবর্তনও জীবকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। এই সাপটির দ্রুত বিস্তার গুয়াম দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করেছে, একাধিক দেশীয় প্রাণী চিরতরে হারিয়ে গেছে। গবেষকদের আশা, এই নতুন তথ্য ভবিষ্যতে আগ্রাসী প্রজাতি নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরও কার্যকর কৌশল তৈরিতে সহায়ক হবে।
সূত্র: Science Advances ; July ; 2026
