ভয়ংকর ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হওয়া সত্ত্বেও বাদুড় নিজে সাধারণত সেই ভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ হয় না। কিভাবে তারা এই ভারসাম্য বজায় রাখে, তা দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য। সম্প্রতি টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেছেন, ভেসপার বাদুড়ের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য ব্যবহৃত জিনের দুটি আলাদা সেট রয়েছে। এখনও পর্যন্ত জানা অন্য কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা দেখা যায়নি। অ্যান্টিবডি হল Y-আকৃতির প্রোটিন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সাধারণ স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডির ‘হেভি চেইন’ তৈরির জন্য এক প্রস্থ জিন থাকে। কিন্তু ভেসপার বাদুড়ের ক্ষেত্রে রয়েছে দুটি পৃথক হেভি-চেইন জিন-ব্যবস্থা। ফলে তারা আরও বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাদুড় পরিবার ভেসপার বাদুড়ের ৫০০-রও বেশি প্রজাতি রয়েছে। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া প্রায় সব মহাদেশেই তাদের দেখা যায়। ভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থান করেও এদের মোটের উপর সুস্থ থাকার ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয়। এত দিন বাদুড়ের জন্মগত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা হয়েছিল। কিন্তু নতুন এই গবেষণা দেখাচ্ছে, সংক্রমণের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরির ব্যবস্থাও বাদুড়ের এই বিশেষ ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। বাদুড় কেন এত কার্যকরভাবে ভাইরাস বহন করতে পারে, তার পুরো ব্যাখ্যা এই গবেষণায় পাওয়া হয়ত সম্ভব নয়। তবে স্তন্যপায়ী প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা বৈচিত্র্যময় হতে পারে তার একটা দিশা তো বটেই। পরাগায়ন, বীজ ছড়ানো এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে বাদুড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা বহু ভাইরাসের প্রাকৃতিক আশ্রয়দাতাও। তাদের শরীর কীভাবে ভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থান করে, তা বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া কমানোর গবেষণাতেও অগ্রগতি হবে।
সূত্র: “Immunoglobulin heavy chain locus duplication in bats” by Taylor Pursell, Ashley Reers, Artem Mikelov, Prasanti Kotagiri, Brandon Lam, James A. Ellison, Scott D. Boyd and Hannah K. Frank, 29 July 2026, Science Advances.
