২০২৫ সালের ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স-এর প্রাপকদের তালিকায় উঠে এসেছে অসমের বরাক উপত্যকার সন্তান ডঃ অতনু নাথ। এ শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়, শিলচর, বরাক উপত্যকা এবং গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত। অতনু কী কাজের জন্য এই সম্মান পেলেন? ডঃ অতনু নাথ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগুলোর একটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন – Muon g-2। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছে ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা (সার্ন), ব্রুকহেভেন জাতীয় গবেষণাগার, ফার্মিল্যাব (ফার্মি জাতীয় ত্বরণযন্ত্র গবেষণাগার)-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। Muon g-2 পরীক্ষা কী? বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর আচরণ বোঝার চেষ্টা করেন। সেই কণাগুলোর মধ্যে একটি হলো মিউয়ন। এটি অনেকটা ইলেকট্রনের মতো, তবে বেশি ভারি। এখন প্রশ্ন হলো, মিউয়ন যখন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘোরে, তখন কি তার আচরণ বিজ্ঞানীদের হিসাবের সঙ্গে মেলে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হয়েছে Muon g-2 পরীক্ষা। আর এখানেই পাওয়া গেছে এমন কিছু ফল, যা ভবিষ্যতে নতুন পদার্থবিজ্ঞানের দরজা খুলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা যে স্ট্যান্ডার্ড মডেল দিয়ে মহাবিশ্বের মৌলিক কণাগুলোকে ব্যাখ্যা করেন, সেটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি। কিন্তু যদি মিউয়নের আচরণ সেই হিসাবের সঙ্গে পুরোপুরি না মেলে, তবে বোঝা যাবে, এখনও অনেক কিছু আমাদের অজানা। অর্থাৎ, ডার্ক ম্যাটার, নতুন কণা, বা অজানা বল- এসব রহস্যের দিকে এগোনোর সূত্রই লুকিয়ে থাকতে পারে এই গবেষণায়। পুরস্কারটি যৌথভাবে পাচ্ছেন বিশ্বের ৩৭৩ জন বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয় গবেষক। সেই ১১ এর মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে একমাত্র নাম- ডঃ অতনু নাথ, শিলচরের এক ছাত্র। এখানেই বিজ্ঞানের সৌন্দর্য। ডঃ নাথ কাছারের গুরুবাজার এলাকায় বড় হন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে পড়াশোনা করে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ -এ উচ্চতর গবেষণায় যোগ দেন। পরে ইতালির নেপলসে পিএইচ ডি, তারপর আন্তর্জাতিক নানা গবেষণা প্রকল্প, নিউট্রিনো পদার্থবিজ্ঞান, QCD, কণা পদার্থবিজ্ঞান- ধাপে ধাপে এগিয়েছেন। বর্তমানে অতনু অসম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৮/৪ তারিখে এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণ বিজ্ঞানীর কথা আমরা আলোচনা করেছি (‘মিউয়ন পরীক্ষায় নবদিগন্ত’)
