হায়দ্রাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত জওহর নগর ডাম্পিং ইয়ার্ড (আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান) বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে তা কোনো ইতিবাচক কারণে নয়। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বর্জ্যভূমি এখন বিশ্বের বর্জ্যখাতের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ মিথেন নিঃসরণকারী স্থানের অধিকারী। পরিবেশবিদদের মতে, এ শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দ্রুত নগরায়ণ, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের বর্জ্য সংকটের ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউ সি এল এ)-এর ‘স্টপ মিথেন প্রজেক্ট’ উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বর্জ্যস্থল থেকে নির্গত মিথেনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, জওহর নগর থেকে ঘণ্টায় ৫.৯ টন মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এই তালিকায় এর ওপরে রয়েছে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। ভারতের মধ্যে মুম্বাই ১২তম স্থানে রয়েছে।
মিথেন অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। এটি স্বল্প সময়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি তাপ আটকে রাখতে সক্ষম। ফলে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত। গবেষণায় বলা হয়েছে, কোনো বর্জ্যস্তূপ থেকে যদি ঘণ্টায় ৫ টন মিথেন বের হয়, তবে তা এক মিলিয়ন এসইউভি গাড়ি বা ৫০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটাতে পারে। সেই তুলনায় জওহর নগরের পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক, তা সহজেই অনুমেয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাতটি আলাদা দিনে মোট ১৪ বার এই এলাকার নির্গমন পরিমাপ করা হয়। এর মধ্যে ৫ই ডিসেম্বর সবচেয়ে বড় মিথেন গ্যাসের দৃশ্যমান কুণ্ডলী ধরা পড়ে, যার নির্গমন হার ছিল ঘণ্টায় ১১.১ টন। অর্থাৎ, কিছু সময়ে পরিস্থিতি গড় হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
জওহর নগরের এই বর্জ্যস্তূপে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন পুরনো বর্জ্য জমে আছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গন্ধ, বায়ুদূষণ ও জলদূষণে আশপাশের বহু আবাসিক এলাকায় জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানালেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এ নিয়ে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনালে (NGT) মামলাও হয়েছে। আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইআইটি বোম্বেকে প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের দায়িত্ব দিয়েছে, যাতে পুরনো ও নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।
জওহর নগরের এই ঘটনা ভারতের শহরগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা। শুধু বর্জ্য ফেলে রাখলেই সমস্যা শেষ হয় না—সেই বর্জ্য একসময় পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জলবায়ুর জন্য বিস্ফোরক হুমকিতে পরিণত হয়। এখনই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, বায়োগ্যাস উৎপাদন এবং বৈজ্ঞানিক ল্যান্ডফিল ব্যবস্থা চালু না করলে ভবিষ্যতে আরও অনেক শহর একই সংকটে পড়বে।
সূত্র: Jawahar Nagar dump site is world’s fourth in methane emissions, study finds, Published on April 22nd , 2026 08:32 pm IST – HYDERABAD.
