মঙ্গল গ্রহে নাসার কিউরিওসিটি রোভার-এর অভিযান ১৪ বছরে পা দিতে চলেছে। ২০১২ সালের ৬ আগস্ট গেইল ক্রেটারে অবতরণের পর থেকে এখনও নিরলসভাবে তথ্য পাঠিয়ে চলেছে রোবটটি। সম্প্রতি তার পাঠানো ছবিতে মঙ্গলের মাটিজুড়ে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ মৌচাকের মতো বহুভুজাকার নকশা, যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির প্রকল্প বিজ্ঞানী অশ্বিন বাসাভাদা জানান, “এই অদ্ভুত ভূ-গঠন কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা জানতে এর আকৃতি ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশদে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে”। এর আগেও কিউরিওসিটি গেইল ক্রেটারে ষড়ভুজাকার কাদার ফাটল আবিষ্কার করেছিল। সেই গবেষণায় জানা গিয়েছিল, প্রাচীন মঙ্গলে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ভেজা-শুকনো চক্র চলত। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন পরিবেশ জীবন বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার অনুকূল হতে পারে। ভেজা-শুকনো চক্রে জলের বাষ্পীভবনের ফলে অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো ক্ষুদ্র জৈব অণুগুলি কাছাকাছি এসে বড় জৈব অণু বা প্রোটিনের পূর্বসূরি তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। যদিও এটি সরাসরি প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়, তবে জীবনের মৌলিক উপাদান গঠনের সম্ভাবনাকে বাড়ায়। এ বছর কিউরিওসিটির পরীক্ষাগারে মঙ্গলের মাটিতে জটিল জৈব যৌগও শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি অণুর গঠন ডিএনএ-র পূর্বসূরির সঙ্গে মিলে গেছে। নতুন আবিষ্কৃত মৌচাক আকৃতির নকশা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীদের আশা, এর বিশ্লেষণ থেকে মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ ও সেখানে জীবনের সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।
সূত্রঃ Nautilus ; July ; 2026
