মানুষের বর্জ্য থেকেই তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের উপাদান! এমনই এক অভিনব উপায় বার করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রক্রিয়াকরণ ঘটিয়ে মানব বর্জ্য থেকে তৈরি ‘বায়োচার’ কংক্রিটে মিশিয়ে তার শক্তি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভারতের মণিপাল ইউনিভার্সিটি জয়পুরের গবেষকেরা তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গালের একটি বর্জ্য শোধনাগার থেকে মানব বর্জ্য থেকে তৈরি প্রক্রিয়াকৃত পদার্থের পিণ্ড সংগ্রহ করেন। সেটি শুকিয়ে ৩৫০–৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে, কম অক্সিজেনে গরম করে তৈরি করা হয় কার্বনসমৃদ্ধ বায়োচার। এই প্রক্রিয়াকে বলে পাইরোলিসিস। এরপর বায়োচার গুঁড়ো করে সিমেন্টের কিছুটা অংশের বদলে ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষায় সিমেন্টের বদলে, ১০ ও ১৫ শতাংশ বায়োচার দিয়ে কংক্রিট তৈরি করা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, ১০ শতাংশ বায়োচার মেশানো কংক্রিট ৯১ দিন পর সাধারণ কংক্রিটের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি চাপ সহ্য করেছে এবং বাঁকানোর শক্তি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ৫ শতাংশ বায়োচারেও এই দুই ক্ষেত্রে শক্তি বেড়েছে যথাক্রমে ২০ ও ৩৬ শতাংশ। তবে ১৫ শতাংশে ফল ততটা ভালো হয়নি। এর একটি কারণ হয়তো বায়োচারের ছিদ্রযুক্ত গঠন। ছোট ছোট ছিদ্রে জল ধরে রেখে তা ধীরে ধীরে ছাড়ে। ফলে সিমেন্টের সঙ্গে জলের রাসায়নিক বিক্রিয়া বা হাইড্রেশন দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে। এতে কংক্রিট আরও শক্ত ও ঘন হয়। তবে তবে এই কাহিনী শুধু শক্ত কংক্রিটেই শেষ নয়। কম পরিমাণে বায়োচার মেশালে কংক্রিটে জল শোষণ কমে, একই সঙ্গে ভারী ধাতু বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাও কমতে পারে। অর্থাৎ, এক ঢিলে দুই পাখি- মানব বর্জ্যের ব্যবহার যেমন হচ্ছে, তেমনই কমছে সিমেন্টের প্রয়োজনীয়তা, যা কার্বন নিঃসরণের অন্যতম বড় উৎস। তবে এখনই এই কংক্রিট দিয়ে বাড়ি-রাস্তা বানানোর সময় আসেনি। বাস্তব পরিবেশে এটি কতটা টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর থাকে, তা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
সূত্র: Scientific Reports (Nature), September 2026
