মশা-তাড়ানো রাসায়নিকে বিপদে ভোমরা

মশা-তাড়ানো রাসায়নিকে বিপদে ভোমরা

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

স্বস্তির জন্য ব্যবহৃত মশা তাড়ানোর যন্ত্র ভোমরা মৌমাছির জন্য অদৃশ্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। ফিনল্যান্ডের তুর্কু ও উলু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, এই যন্ত্রে ব্যবহৃত প্রালেথ্রিন নামের কীটনাশক স্বল্প সময়ে মৌমাছিকে না মারলেও তাদের বাসায় ফেরার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভ্রমরের বাসায় ফেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কর্মী মৌমাছিরা ফুল থেকে খাবার সংগ্রহ করে বাসায় ফেরে এবং লার্ভাদের খাওয়ায়। কোনো মৌমাছি যদি ফিরতে না পারে, তবে পুরো বসতির খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়। এক-দুটি মৌমাছি হারানো তেমন বড় মনে না হলেও, এটি বারবার ঘটলে পুরো বাসাটা দুর্বল হয়ে পড়বে। গবেষণায়, বাফ-টেইলড ভোমরা (Bombus terrestris) প্রজাতির ১৬৭টি মৌমাছিকে ১, ১০ ও ২০ মিনিট প্রালেথ্রিনের সংস্পর্শে রাখা হয়। এরপর তাদের বাসা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে ছেড়ে দিয়ে তিন দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, যেসব মৌমাছি কোনো রাসায়নিকের সংস্পর্শে যায়নি, তাদের ৩৭ শতাংশ বাসায় ফিরেছে। ১ মিনিট সংস্পর্শে থাকা ভ্রমরের ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু ১০ মিনিট ধরে প্রালেথ্রিনের সংস্পর্শে থাকা ভ্রমরের ক্ষেত্রে বাসায় ফেরার হার নেমে আসে ১৭ শতাংশে, আর ২০ মিনিটে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ শতাংশে। অর্থাৎ সংস্পর্শের সময় বাড়লে পথ হারানোর ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যেসব মৌমাছি ফিরতে পেরেছে, তাদের ফিরতে বেশি সময় লাগেনি। এতে বোঝা যায়, রাসায়নিকটি তাদের দুর্বল না করে দিকনির্ণয় ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সংস্পর্শে মৃত্যুহারও বাড়েনি, যা সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ পথভ্রষ্ট মৌমাছিকে সহজে শনাক্ত করা যায় না। গবেষকদের মতে, কর্মী মৌমাছি কমে গেলে খাদ্য সংগ্রহ কমে যায়, নতুন রানি উৎপাদন হ্রাস পায় এবং শেষ পর্যন্ত পুরো বসতি ধ্বসে যায়। গবেষণাটি দেখাচ্ছে ঘরোয়া কীটনাশকের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবা জরুরি। বিশেষ করে যখন এগুলো শুধু আরাম বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন এর পরিবেশগত মূল্যও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

 

সূত্র: earth. com; April, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × three =