মস্তিষ্কের বর্জ্য সাফাই ও আইনস্টাইন 

মস্তিষ্কের বর্জ্য সাফাই ও আইনস্টাইন 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৩০ মে, ২০২৬

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর অসাধারণ মেধার বিখ্যাত। তবে তিনি কাজের পাশাপাশি বিশ্রামকেও সমান গুরুত্ব দিতেন। নিয়মিত প্রায় ১০ ঘণ্টা ঘুমাতেন এবং দিনের মাঝেও কিছু কিছু সময় ঘুমিয়ে নিতেন। তাঁর একটি মজার কৌশলও ছিল। ঘুমিয়ে পড়ার সময় হাতে একটি ধাতব চামচ বা বল ধরে রাখতেন। ঘুম গাঢ় হলে সেটি হাত থেকে পড়ে যেত এবং শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যেত। সেই মুহূর্তে ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় মাথায় আসা নতুন ভাবনাগুলি তিনি মনে রাখার চেষ্টা করতেন। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, আইনস্টাইনের এই অভ্যাসের পিছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের ‘গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম’ সক্রিয় হয়ে ক্ষতিকর বর্জ্য পরিষ্কার করে। একই সঙ্গে স্মৃতি গুছিয়ে রাখা এবং তথ্য পুনর্বিন্যাসের কাজও চলে। এর ফলে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বাড়তে পারে। তাছাড়া আইনস্টাইন নিজের জন্য নিরিবিলি চিন্তার সময়ও রাখতেন। দীর্ঘক্ষণ হাঁটতেন বা নৌকায় ভেসে সময় কাটাতেন, যাতে মন অবাধে ভাবতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরনের মানসিক বিশ্রামের সময় মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় হয়, যা নতুন ধারণা ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গে জড়িত। আইনস্টাইনের এ হেন জীবনযাপন মনে করিয়ে দেয়, শুধু নিরন্তর কাজ নয়, সঠিক বিশ্রামও মানসিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

সূত্র: Quantum Physics ; May ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + fifteen =