পৃথিবীতে সূর্যের আলো-অন্ধকারের নিয়মিত পরিবর্তন আমাদের শরীরের ২৪ ঘণ্টার জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু মহাকাশে এই স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যায়। একটি মহাকাশযান প্রায় ৯০ মিনিটে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে , কাজেই মহাকাশচারীরা দিনে প্রায় ১৬ বার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখেন। তবু তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম, কাজ, খাওয়া ও ব্যায়াম সারতে হয়।
ঘুম নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দুটি ব্যবস্থা—সার্কাডিয়ান ঘড়ি এবং জেগে থাকার সঙ্গে জমতে থাকা ঘুমের চাপ। মহাকাশযাত্রা, জেট ল্যাগ বা শিফটের কাজে এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে তাল নষ্ট হতে পারে। ফলে শরীর ক্লান্ত হলেও মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত না-ও থাকতে পারে।
দেখা গেছে, মহাকাশচারীদের প্রতিদিন প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ঘুমের সুযোগ থাকলেও তাঁরা বাস্তবে সাধারণত ৬–৬.৫ ঘণ্টা ঘুমান। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ছয় ঘণ্টা বা তার কম ঘুমের সঙ্গে সতর্কতা ও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত শনাক্ত করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই মহাকাশে ঘুমের ঘাটতি শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, মিশনের নিরাপত্তারও প্রশ্ন।
ঘুম ঠিক রাখতে আলো, ব্যায়াম, খাবার ও কাজের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উজ্জ্বল, নীল আলো জেগে থাকতে সাহায্য করে, আর ঘুমের আগে কম আলো ও স্বল্প নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ঘুম জাগরণ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ঘুমের উপযোগী আলো আবার মহাকাশযানের রঙিন কোডযুক্ত সংকেত শনাক্ত করার ক্ষমতা কমাতে পারে। ক্যাফেইনও সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়ালেও পরবর্তী ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
আর্টেমিস ২ মিশনে মহাকাশচারীদের ঘুম ও শারীরিক কার্যকলাপ সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ভালো ঘুমের জন্য শুধু পর্যাপ্ত সময় নয়, সঠিক সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানে চ্যালেঞ্জ আরও বড়। মঙ্গলের এক দিন পৃথিবীর এক দিনের চেয়ে প্রায় ৪০ মিনিট দীর্ঘ। ফলে প্রতিদিন ঘুম ও জাগরণের সময় সামান্য একটু করে পিছিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিবর্তন মানুষের জৈবঘড়ির ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ মঙ্গলযাত্রীরা এক গ্রহের দিন থেকে অন্য গ্রহের দিনে মানিয়ে নেওয়ার সময় নতুন ধরনের জেট ল্যাগের মুখোমুখি হতে পারেন।
সূত্র:https://theconversation.com/what-space-travel-teaches-us-about-sleep-and-circadian-rhythms-293289
