মিষ্টি পানীয় ও কিশোর–কিশোরীর মানসিক স্বাস্থ্য 

মিষ্টি পানীয় ও কিশোর–কিশোরীর মানসিক স্বাস্থ্য 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কিশোর–কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগজনিত সমস্যার ঊর্ধ্বগতি আজ বিশ্ব জুড়ে জনস্বাস্থ্যের এক গভীর উদ্বেগের কারণ। এই উদ্বেগজনিত সমস্যার দ্রুত বৃদ্ধি কি শুধু সামাজিক চাপ, পড়াশোনার প্রতিযোগিতা বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের ফল? নাকি এই মানসিক অস্থিরতার পেছনে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে চিনি–সমৃদ্ধ পানীয়ের বাড়তি ব্যবহারের এক নীরব ভূমিকা আছে? যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা ও গবেষণা এই প্রশ্নে নতুন আলোকপাত করেছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব হিউম্যান নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্সে । এতে বিভিন্ন দেশের একাধিক পূর্ববর্তী গবেষণার ফলাফল একত্র করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর ফলে খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে কোনো ধারাবাহিক সম্পর্ক আছে কি না তা বোঝা যায়। বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে— চিনি–সমৃদ্ধ পানীয় (যেমন- সফট ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক, মিষ্টি ফলের রস, ফ্লেভার্ড দুধ, মিষ্টি চা–কফি ইত্যাদি) বেশি পরিমাণে গ্রহণের সঙ্গে কিশোরদের উদ্বেগের উপসর্গের সম্পর্কটা কেমন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কিশোর–কিশোরী নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে মিষ্টি পানীয় সেবন করে, তাদের মধ্যে উদ্বেগের উপসর্গ জানানোর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। যদিও পৃথক গবেষণার নকশা, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ভিন্নতা ছিল, তবুও সামগ্রিক প্রবণতা ছিল মোটের ওপর সামঞ্জস্যপূর্ণই। এই ধারাবাহিকতাই গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা কোনো প্রকারে কার্য-কারন সম্পর্ক নিশ্চিত করে না। অর্থাৎ চিনি–সমৃদ্ধ পানীয়ই যে সরাসরি উদ্বেগ সৃষ্টি করে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে যথাযথ নয়। সমানভাবে সম্ভাব্য যে, উদ্বেগে ভোগা কিশোররা তা সামাল দিতে বেশি করে মিষ্টি পানীয় পান করে । এছাড়া পারিবারিক পরিবেশ, ঘুমের অভাব, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা সামগ্রিক জীবনযাপনের ধরন—এসবও একই সঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই বিশ্লেষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। সহ–লেখক ড. ক্লোয়ি কেসি উল্লেখ করেন, জনস্বাস্থ্য উদ্যোগগুলোতে সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের শারীরিক প্রভাব, যেমন- স্থূলতা ও টাইপ–২ ডায়াবেটিস—নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু খাদ্যাভ্যাসের মানসিক প্রভাব, বিশেষ করে পুষ্টিগুণ কম অথচ ক্যালোরি বেশি এমন পানীয়ের ক্ষেত্রে, তুলনামূলকভাবে কম গবেষণা হয়েছে। এই গবেষণা সেই ঘাটতি পূরণের একটি প্রচেষ্টা।

প্রকৃত অর্থেই গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। নীতি–নির্ধারক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্পষ্ট বার্তা এটাই যে, সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে খাদ্যাভ্যাসকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। চিনি–সমৃদ্ধ পানীয় কমানো হয়তো একক সমাধান নয়, কিন্তু এটি কিশোরদের সামগ্রিক সুস্থতার পথে একটি বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।

 

সূত্র: “Sugar-Sweetened Beverage Consumption and Anxiety Disorders in Adolescents: A Systematic Review and Meta-Analysis” by Karim Khaled, Nathalie Abdulbaki, et.al;10th February 2026, Journal of Human Nutrition and Dietetics.

DOI: 10.1111/jhn.70217

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + 11 =