সূর্যের আলোকে আরও দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুতে রূপান্তর করা, সাশ্রয়ী শক্তির ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। তারই একেবারে মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ অধ্যাপক লরা হার্জ। অর্ধপরিবাহী পদার্থের সঙ্গে আলোর মিথস্ক্রিয়া এবং আলো থেকে শক্তিতে রূপান্তরের পদার্থবিদ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এ বার তিনি পেলেন রয়্যাল সোসাইটির রামফোর্ড মেডেল। আলো কোনও অর্ধপরিবাহী পদার্থে পড়লে ঠিক কি ঘটে? কিভাবে তৈরি হয় চলনশীল বৈদ্যুতিক আধান? সেই আধান কিভাবেই বা পদার্থের মধ্যে চলাচল করে? আর কেনই বা অনেক সময় তা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগার আগেই নষ্ট হয়ে যায়? অধ্যাপক হার্জের গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে এরকম সমস্ত প্রশ্নই। মেটাল-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট, ন্যানোমেটিরিয়াল এবং বিভিন্ন অণু, বিশেষ করে পেরোভস্কাইট নিয়ে তাঁর কাজ গত এক দশকে সৌরকোষ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। নতুন প্রজন্মের অর্ধপরিবাহী পদার্থ তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। অথচ সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তরণের ক্ষেত্রে এগুলি অত্যন্ত উচ্চ দক্ষতা দেখাতে পারে। হার্জের দল তাই শুধু নতুন কোনও উপাদান তৈরি করছে না, বরং তার ভিতরে আলো ও বৈদ্যুতিক আধানের আচরণের মৌলিক কারণগুলি বোঝার চেষ্টা করছে। এই জ্ঞান কাজে লাগিয়েই বিজ্ঞানীরা এমন অর্ধপরিবাহী পদার্থ ও সৌরকোষের নকশা তৈরি করতে পারবেন, যেখানে সূর্যের আলো থেকে পাওয়া শক্তির অপচয় কম হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়বে। মৌলিক পদার্থবিদ্যা থেকে ব্যবহারিক প্রযুক্তি – হার্জের গবেষণার গুরুত্ব এখানেই। তাঁর কাজ দেখায়, কোনও প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করার জন্য তার পিছনে থাকা মৌলিক বিজ্ঞানকে বোঝা কতটা জরুরি। গবেষণায় অবদানের জন্য এর আগেও একাধিক সম্মান পেয়েছেন হার্জ। এর মধ্যে রয়েছে ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের মাইকেল ফ্যারাডে মেডাল অ্যান্ড প্রাইজ। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ক্ল্যারিভেটের ‘হাইলি সাইটেড রিসার্চার’ তালিকায় উল্লেখিত হয়েছেন। তাছাড়াও তিনি রয়্যাল সোসাইটি, রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি, মেটিরিয়ালস রিসার্চ সোসাইটি এবং ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের ফেলো। তবে গবেষণাগারের মধ্যেই হার্জের কাজ সীমাবদ্ধ নয়। তরুণ গবেষকদের পথ দেখানো, গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দেওয়ার কাজেও তিনি সমান সক্রিয়। রামফোর্ড মেডেল পেয়ে হার্জ এই স্বীকৃতির জন্য তাঁর ছাত্রছাত্রী, পোস্টডক্টরাল গবেষক ও সহযোগী বিজ্ঞানীদের কৃতিত্ব দিয়েছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যান্ড্রু বুথরয়েড বলেন, “হার্জ একজন অত্যন্ত দক্ষ পরীক্ষামূলক পদার্থবিদ এবং বিভাগের গবেষকদের কাছে অনুপ্রেরণার অন্যতম মুখ। এই স্বীকৃতি তাঁর প্রাপ্য।” হার্জ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ রামফোর্ড মেডালপ্রাপ্ত গবেষক। তাঁর আগে টনি বেল (২০২৪), রেমন্ড পিয়ারহামবার্ট (২০২২) এবং ইয়ান ওয়ালমসলে (২০১৮) এই সম্মান পেয়েছেন।
সূত্র: University of Oxfrod; Department Of Physics; Aug;2026
