সন্ধ্যা নামলেই রুয়ান্ডার জঙ্গলে শিম্পাঞ্জিরা গাছের ডালপালা আর পাতা জুড়ে নিজেদের রাতের বিছানা বানাতে শুরু করে। প্রতিদিনই নতুন বাসা। গবেষণা বলছে, এই বাসা শুধু ঘুমানোর জন্য নয়। হয়তো রাতের আবহাওয়ার আন্দাজও লুকিয়ে থাকে এই বাসা বানানোর মধ্যে। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা দেখেছেন, ঠান্ডা বা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে শিম্পাঞ্জিরা খানিকটা গভীর ও মোটা বাসা তৈরি করে। তারা এমন গাছও বেছে নেয়, যেখানে পাতার আচ্ছাদন বেশি। এতে বৃষ্টি কম লাগে, ঠান্ডা হাওয়াও কিছুটা আটকায়। বিজ্ঞানীরা জঙ্গলে শিম্পাঞ্জিদের তৈরি বাসাগুলির আশপাশের তাপমাত্রা, বাতাস ও আর্দ্রতা মাপেন। পাশাপাশি গরম জলভর্তি বোতল রেখে পরীক্ষা করে দেখেন, কোন ধরনের বাসা বেশি তাপ ধরে রাখতে পারে। ফলাফল বলছে, বড় ও গভীর বাসা শরীরের উষ্ণতা অনেক বেশি ধরে রাখে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, বাসা তৈরির ধরন সেই সময়ের আবহাওয়ার চেয়ে রাতের পরের আবহাওয়ার সঙ্গে বেশি মিল দেখিয়েছে। অর্থাৎ শিম্পাঞ্জিরা হয়তো বাতাসের ছোট ছোট পরিবর্তন বুঝে আগাম প্রস্তুতি নেয়। তবে তাঁরা এখনও নিশ্চিত নন, শিম্পাঞ্জিরা সত্যিই “আবহাওয়ার পূর্বাভাস’’ দিতে পারে কি না। কিন্তু শিম্পাঞ্জিদের রাতের বাসা যে শুধু আরামের জন্য নয়, তার মধ্যে যে বুদ্ধি, পরিকল্পনা আর পরিবেশ বোঝার ক্ষমতাও লুকিয়ে আছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
সূত্র: Earth . com ; May ; 2026
