শেখা আর শিখে কাজ করা

শেখা আর শিখে কাজ করা

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৫ মার্চ, ২০২৫

‘নেচার’ পত্রিকায় জনস হপকিন্স-এর স্নায়ুবিজ্ঞানী কিশোর কুচিভোটলা জানিয়েছেন, “একটা ইঁদুরের মস্তিষ্কের একটা ছোট্টো অংশ দেখে আমরা বুঝতে পারি তার মস্তিষ্ক কীভাবে শিখে নেয়, আর সেখান থেকে আমরা মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করতে পারে তার পূর্বাভাস দিতে পারি। কিন্তু এ ধরণের গবেষণার চরম লক্ষ্য হল চিন্তা – অর্থাৎ যা শুনছি আর যা করছি তার মাঝখানে কী ঘটছে তা বোঝা। উচ্চমার্গের বোধবুদ্ধি ঘটিত প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেভাবে কাজ তার অন্তর্লীন ছাঁদগুলোকে এখনো বোঝাবার চেষ্টা করে চলেছি আমরা”। এর আগে দেখা গিয়েছিল, প্রাণীর কর্মকৃতি সর্বদা তার অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে না। বিবিধ পরীক্ষায় তারা যা প্রদর্শন করে তাদের জ্ঞান কিন্তু তা থেকে ঢের বেশি। গবেষকদের মনে হয়েছিল, যেসব প্রাণীর শিখতে বেশি সময় লাগে বলে মনে হয় তারা হয়তো তাদের অর্জিত নতুন জ্ঞানকে যাচাই করে নেয়। “হয়তো মানুষ সমেত অন্য প্রাণীরা এই বিশ্ব সম্বন্ধে যা কিছু জানছে তার সবটা প্রকাশ করতে চায় না। আমাদের মূল বিবেচ্য প্রশ্নটা হল, শিখে নেওয়া আর কর্মকৃতির মধ্যে যে প্রভেদ আছে তার স্নায়ুজালিকা-ঘটিত ভিত্তিটা কী”।
ইঁদুরদের শেখানো হল একটা বিশেষ সুর শুনলেই মুখ চাটতে, আবার অন্য একটা সুর শুনলে মুখ না-চাটতে। প্রশিক্ষণ পর্বর শুরু থেকেই তাদের মস্তিষ্কবল্কলের শ্রবণ-অঞ্চলের নিউরনগুলির ক্রিয়াকর্ম রেকর্ড করা হল। ওই একই অঞ্চলটি ধারণা গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দেখা গেল, ইঁদুরগুলো অতি দ্রুতগতিতে শিখল, মাত্র ২০-৩০বার চেষ্টা করে। কিন্তু এই শিখে নেওয়ার কর্মকাণ্ডটি ঘটল মস্তিষ্কবল্কলের শ্রবণ-অঞ্চলে নয়, বোধ সংক্রান্ত অঞ্চলে। গবেষণাপত্রটির প্রথম লেখক সেলিন ড্রিয়ু বলেছেন, এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, শেখবার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্বে বিভিন্ন দশায় মস্তিষ্কর ক্রিয়াকাণ্ড, আচরণকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা যাচাই করে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্কের একটি বোধঘটিত অঞ্চল যে শুধুই বাইরে থেকে আসা বোধ-উদ্দীপনার প্রক্রিয়াকরণ করে তা নয়, বোধঘটিত ইঙ্গিত আর নতুন শক্তিতে বলীয়ান ক্রিয়াকর্মর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনও এর কাজ। ইঁদুররা কাজটা শিখে ফেলেছে, অথচ তার পরেও তারা ভুল কাজ করেই চলেছে – এহেন অবস্থায় তাদের মস্তিষ্কের কাজকর্ম দেখে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে তারা নিয়মগুলো ঠিকঠাক জানা সত্ত্বেও সেগুলোকে যাচাই করে দেখছিল। কাজটা একবার ভালো করে শিখে নেওয়ার পর ইঁদুররা যখন তাদের যাচাই করার পালা শেষ করে, তখন এই উচ্চমার্গের ক্রিয়া কমতে শুরু করে, এবং মস্তিষ্কবল্কলের বোধ ঘটিত অঞ্চলটি আর একাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে না। গবেষকদের মতে, এর অর্থ, শিখে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকে মস্তিষ্কের বিশেষ বিশেষ গতিশীলতা। আপনি হয়তো একটা কিছু জানেন, কিন্তু সেই জানাটাকে কীভাবে প্রয়োগ করবেন তা নিয়ে একই সঙ্গে আপনার মস্তিষ্কে অন্য একটা প্রক্রিয়া চলতে থাকে। কোনো কিছুতে উত্তরোত্তর পটু হয়ে ওঠার এই হল প্রক্রিয়া।
সূত্র: Johns Hopkins University. “Brain imaging reveals surprises about learning.” ScienceDaily. ScienceDaily, 19 March 2025. <www.sciencedaily.com/releases/2025/03/250319143013.htm>.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 4 =