শৈশবের দারিদ্র্য, ভবিষ্যতের ঝুঁকি

শৈশবের দারিদ্র্য, ভবিষ্যতের ঝুঁকি

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১০ অক্টোবর, ২০২৬

সম্প্রতি একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে , একটি শিশুর শৈশবে দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় পড়ে। দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা তরুণদের ১৭ ও ২৩ বছর বয়সে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণ— এই তিন জগতের বাইরে থাকার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জোসেফ রাউন্টি ফাউন্ডেশন -এর জন্য যুক্তরাজ্যের মিলেনিয়াম কোহর্ট স্টাডির তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণায় শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্কতা পর্যন্ত একই ব্যক্তিদের জীবন অনুসরণ করা হয়েছে। এখানে দারিদ্র্য বলতে এমন পরিবারকে বোঝানো হয়েছে, যাদের আয় পরিবারের আকার অনুযায়ী সমন্বয় করার পর ইংল্যান্ডের জাতীয় মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশের নীচে। শৈশব পর্যায়ে এই অবস্থার মধ্যে থাকাকে বলা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য।

গবেষণায় দেখা যায়, কখনও শৈশব-দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতা না থাকা তরুণদের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্যে বেড়ে ওঠা তরুণদের ১৭ বছর বয়সে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকার ঝুঁকি ৩.৩ গুণ এবং ২৩ বছর বয়সে ৩.৪ গুণ বেশি। শুধু এই ঝুঁকিই নয়, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাও তাদের জন্য বেশি কঠিন। ১৭ বছর বয়সে এই তরুণদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্যে বেড়ে ওঠা ৫৬ শতাংশই ২৩ বছর বয়সেও তাই থেকেছে। দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতা না থাকা তরুণদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৩ শতাংশ।

দারিদ্র্য কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করে, তার কিছু কারণও উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে খাবার, স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা যাতায়াতের খরচ জোগাড় করা কঠিন হতে পারে। বাড়ির আর্থিক চিন্তা, দায়িত্ব ও অনিশ্চয়তা পড়াশোনায় মনোযোগ এবং নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে শিক্ষা বা চাকরিতে ফিরতেও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা থাকে। চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার যাতায়াত খরচ, প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ফি এবং শিশুর দেখাশোনার খরচ অনেকের পক্ষে বহন করা কঠিন। অস্থায়ী চাকরি, অনিয়মিত কার্যকাল এবং পারিবারিক বা অন্যান্য দায়িত্বও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। গবেষকদের মতে, এই সমস্যাকে শুধু তরুণ বয়সের সমস্যা হিসেবে দেখলে এর মূল কারণ বোঝা যাবে না। শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সুযোগকে ধাপে ধাপে প্রভাবিত করতে পারে শৈশবের দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য। তাই তরুণরা পিছিয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে শৈশব থেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং একজন বিশ্বস্ত সহায়তাকারী নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দারিদ্র্যের এই চক্র ভাঙতে হলে তরুণদের সমস্যার পাশাপাশি তাদের শৈশবের আর্থিক ও সামাজিক পরিবেশকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সূত্র: “Falling through the cracks: how childhood hardship shapes life chances” by Rachel Casey, Isobel Richardson and Katie Schmuecker, 15 September 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − three =