সবুজ শহর : দূষণ কম, উন্নয়ন বেশি! 

সবুজ শহর : দূষণ কম, উন্নয়ন বেশি! 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৩ মে, ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হতো, অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানেই শিল্পায়ন ও নগরায়ণ। অর্থাৎ বেশি কারখানা, বেশি গাড়ি মানেই আরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। ফলে উন্নয়নের সঙ্গী ছিল দূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি। কিন্তু নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, বিশ্বের বহু বড় শহর এখন সেই পুরনো ধারণা বদলে দিচ্ছে। দেখা গেছে, বিশ্বের ২,৪৭৫টি বড় শহরের প্রায় ৮০ শতাংশেই অর্থনীতি বাড়ছে, অথচ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর দূষণ কমছে। অর্থাৎ উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। গবেষকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-৫পি উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করেন। তাঁরা এই তথ্য ব্যবহার করে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শহরের ওপরের বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)-এর মাত্রা পরিমাপ করেছেন। এই গ্যাস মূলত গাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তৈরি হয়। সেই তথ্যের সঙ্গে শহরগুলির মাথাপিছু জিডিপি মিলিয়ে দেখা হয়, কোথায় কোথায় কম দূষণের মধ্যেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। মোট ৫,৪৩৫টি শহর নিয়ে গবেষণা শুরু হলেও, অনেক শহরে NO2-এর মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। অবশ্য কিছু কিছু শহরের অর্থনৈতিক তথ্য তেমন নির্ভরযোগ্য ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২৪৭৫টি শহরকে বিশ্লেষণের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০০০ টি শহরে দেখা যায়, মাথাপিছু জিডিপি বেড়েছে অথচ NO2 কমেছে। গবেষকেরা এই ধরনের শহরকে “সবুজ শহর” বা ‘গ্রিন’ শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সবচেয়ে বেশি এমন শহর পাওয়া গেছে চিনে। বেইজিং, সাংহাই ও চেংদুর মতো শহরে দূষণ কমানোর কড়া নীতি, বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ও শিল্প নিয়ন্ত্রণ এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ইউরোপের প্যারিস, বার্লিন, রোম ও আমস্টারডাম প্রভৃতি শহরেও পরিচ্ছন্ন শক্তি ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার সুফল পাওয়া গেছে। তবে সব শহরের চিত্র সমান নয়। রিয়াধ, মস্কো বা আবু ধাবির মতো কিছু শহরে এখনও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সঙ্গে দূষণও বাড়ছে। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখাচ্ছে যে জলবায়ু মোকাবিলায় শহর প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও NO2 সরাসরি মোট কার্বন নির্গমন মাপে না, তবুও গবেষণাটি আশা দেখাচ্ছে যে উন্নয়ন আর দূষণ হয়তো একে অপরের সহচর নাও হতে পারে, যদি উপযুক্ত পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন হয়।

 

সূত্র: doi: https:// doi. org /10.1038/d41586-026-01491-y

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 8 =