সাফল্যের চালিকা শক্তি

সাফল্যের চালিকা শক্তি

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৭ এপ্রিল, ২০২৬

স্কুলে ভালো ফল করার জন্য শুধু মেধা বা কঠোর পরিশ্রম যথেষ্ট নয়। বরং এর অনেকটাই নির্ভর করে শিক্ষার্থীর মানসিকতার উপর। নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণায় দেখা গেছে, শেখার প্রতি একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গিই তার সাফল্য, আত্মবিশ্বাস এবং শেখার আনন্দকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

গবেষণায় ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ২৪৯ জন শিক্ষার্থীর ওপর বিশ্লেষণ চালানো হয়। এতে চারটি মনস্তাত্ত্বিক উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়—১) গ্রোথ মাইন্ডসেট (উন্নয়নের উপযোগী মানসিকতা), ২) আত্মবিশ্বাস, ৩) তীব্র আগ্রহ, এবং ৪) বিকশিত হয়ে ওঠার

অদম্য অধ্যবসায় বা গ্রিটগ্রোথ মাইন্ডসেট। অর্থাৎ এমন বিশ্বাস, যেখানে শিক্ষার্থী মনে করে যে প্রচেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব। অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাস হলো নিজের নির্দিষ্ট কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষমতার ওপর আস্থা।

গবেষণার ফলাফলে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে গ্রোথ মাইন্ডসেট শিক্ষাগত সাফল্যের সঙ্গে সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে সম্পর্কিত। যারা বিশ্বাস করে যে তারা শিখে উন্নতি করতে পারবে, তারা চ্যালেঞ্জের মুখেও স্থির থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল অর্জন করে। এই মানসিকতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতার বোধ তৈরি করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও ইতিবাচক করে তোলে।

আত্মবিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে সেই বিষয়গুলোতে যেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, যেমন শারীরিক শিক্ষা। এই ধরনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিজেদের অগ্রগতি দেখতে পায়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শেখার প্রতি আগ্রহ জাগায়। ফলে তারা আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে, তীব্র আবেগ এবং অদম্য জেদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে দেখা গেছে। যদিও আগ্রহ কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে এটি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা আত্মবিশ্বাসের মতো অত প্রভাবশালী নয়। একইভাবে, অধ্যবসায় সরাসরি একাডেমিক ফলাফলের সঙ্গে ততটা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নয়।

এ গবেষণায় লিঙ্গভেদেও কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। ছেলেরা নিজেদের বেশি উদ্যমী ও অধ্যবসায়ী বলে উল্লেখ করলেও, তা সবসময় উন্নত ফলাফলে প্রতিফলিত হয়নি। বিপরীতে, মেয়েরা ভাষা বিষয়ক ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করেছে এবং নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে বেশি আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে।

এই গবেষণার মূল বার্তা হলো—ভুল করা শিক্ষণের একটি স্বাভাবিক অংশ। শিক্ষার্থীরা যদি ভুলকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে, বরং শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তাদের অগ্রগতি আরও কার্যকর হয়। সেই প্রেক্ষিতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নতির সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করতে পারে এবং চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে শেখে।

শিক্ষাগত সাফল্য নির্ধারণে কেবল প্রচেষ্টা নয়, বরং সেই প্রচেষ্টার পেছনের মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: Growth mindset may be the secret to succeeding in school, published in the journal, 1st March 2026.

Volume 11 – 2026 | https://doi.org/10.3389/feduc.2026.1708978

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × three =