সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বোধবুদ্ধির ক্ষয়

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বোধবুদ্ধির ক্ষয়

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বার্ধক্যে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মস্তিষ্কের বোধবুদ্ধির ক্ষমতাকে দ্রুত কমিয়ে দেয়। কেউ নিজেকে একাকী মনে করুক বা না করুক, যদি তার সামাজিক যোগাযোগ কম থাকে, তবে তার বোধশক্তি দ্রুত হ্রাস পায়। গবেষণায় ব্যক্তির সামাজিক বিচ্ছিন্নতা পরিমাপ করা হয়। অন্যদিকে, একাকীত্বর মাত্রা বোঝানো হয়েছে ব্যক্তি নিজে কতটা একা বোধ করেন, সেই অনুভূতির ভিত্তিতে। ফলাফল স্পষ্ট। স্বাস্থ্যের ওপর একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দু’টিরই প্রভাব রয়েছে, কিন্তু বোধবুদ্ধির অবনতির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই।

গবেষণায় সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের হেল্‌থ অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট স্টাডি-র তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংগৃহীত ৩০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার বুদ্ধি পরীক্ষার ফল এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সব লিঙ্গ, জাতিগোষ্ঠী ও শিক্ষা স্তরেই একই প্রবণতা দেখা গেছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমালে মস্তিষ্কের বোধশক্তি বেশি দিন সুস্থ থাকে।

আলঝেইমারের এখনো নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা না থাকায়, প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, আর যুক্তরাজ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১১ জনে একজন এতে ভোগেন। গবেষণার প্রধান লেখক ড. জো হেল বলেন, যাদের পাশে পরিবার বা বন্ধু নেই, তাদের জন্য নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তাই সামাজিক সংযোগ শুধু মানসিক স্বস্তির জন্য নয়, মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখার জন্যও জনস্বাস্থ্যর এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের ওপর পড়া প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে, একদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ভিন্ন প্রভাবগুলি সামগ্রিকভাবে বুঝতে হবে।

 

সূত্র: The Journals of Gerontology, Series B: Psychological Sciences and Social Sciences; Dec 2025.

 

\

One thought on “সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বোধবুদ্ধির ক্ষয়

  1. Barun Bhattacharya

    সমস্যা গুরুতর এই রাজ্যে তা গুরুতর প্লাস। রাজনীতির চক্করে সেই ৬৭ সাল থেকে দেখে আসছি এক একটা পরিবার আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছে। কারণ দু-পক্ষের রাজনৈতিক মতামতের অমিল হল তো মুখ দেখাদেখি বন্ধ। ক্লাব, লাইব্রেরী, ব্যায়াম সমিতি সবেতেই দলাদলি। পাড়া বলে কিছু নেই, রকের আড্ডা, চায়ের দোকানের গুলতানি সেসব কিছু বয়স্কদের স্মৃতিচারণে পাওয়া যায়। ফাঁকা মাঠ নেই, পুকুর সব ভরাট। খোঁজ নিলে দেখা যাবে অনেকের মামা-র বাড়ি, মাসীর বাড়ি নেই। নেমন্তন্ন বাড়িতে কোমরে গামছা বাঁধা পরিবেশনরত হাবুলদা-রা নেই। এই সব নেইগুলোকে ফেরত আনবে কে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − two =