ওড়িশার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে চাষাবাদ ও খাবার তৈরির কাজে বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। কোথাও সেচের জন্য ডিজেল পাম্প চালাতে হয়, আবার কোথাও বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার তৈরি ও সরবরাহে দেরি হয়। সেই সমস্যার মোকাবিলায় এখন ভরসা হয়ে উঠছে সৌরশক্তি। কোরাপুটের বৈরাগীপুর গ্রামের অনেক কৃষক-কেই আগে সেচের জন্য বিদ্যুৎ বা ডিজেল পাম্পের উপর নির্ভর করতে হত। ২০২৪ সালে সৌরচালিত মোটর, পাইপ ও স্প্রিঙ্কলার পাওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে। আগে এক ঘণ্টা পাম্প চালাতেই প্রায় এক লিটার ডিজেল লাগত। এখন সৌর মোটরেই চলছে সেই সেচের কাজ। কৃষক গোপীনাথ শিশার ক্ষেত্রেও সৌর মোটর আসার পর বেড়েছে উৎপাদন। ২০২৩ সালে বিন বিক্রি করে যেখানে আয় হয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। তবে সৌরশক্তি শুধু সেচেই নয়, ফসল সংরক্ষণেও কাজে লাগছে। নন্দপুরের কুর্জি গ্রামের একটি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী সৌর ড্রায়ারে আদা শুকিয়ে বিক্রি করছেন। আগে প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক আদা-ই নষ্ট হত। এখন সৌর ড্রায়ার, কাটার ও ফ্যানের সাহায্যে আদা শুকিয়ে তার দামও বাড়ানো যাচ্ছে। ফলে লাভও হচ্ছে ভালো। বৈরাগীপুরের কিছু এলাকায় আবার নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। কোথাও দিনে ২–৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, কোথাও জমির কাছেই বৈদ্যুতিক খুঁটি নেই। তাই ৫ হর্সপাওয়ারের সৌর মোটর, পাইপ ও স্প্রিঙ্কলার দিয়ে বৃষ্টি, পাহাড়ি ঝরনা ও মাটির জল ব্যবহার করে সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে একাধিক গ্রামের প্রায় ২০ জন কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। কালাহান্ডির থুয়ামুল রামপুরেও সৌরশক্তি কাজে লাগাচ্ছেন মহিলারা। জয় দুর্গা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১০ জন সদস্য আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য খাবার তৈরি করেন। সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের খরচ কমেছে এবং দূরের ভবানীপাটনা থেকে আর উপকরণ আনতে হচ্ছে না। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখনও সমস্যা। বিশেষত বর্ষাকালে টানা ১০–১৫ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। সেখানেই সূর্যের আলো এখন চাষ, ফসল সংরক্ষণ ও ছোট ব্যবসার কাজে নতুন ভরসা হয়ে উঠছে। আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এইভাবে মানুষের জীবনকে স্বচ্ছন্দ করার কাজে লাগছে।
সূত্র: Down to Earth; September 2026
