স্কিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার-এর অভিন্ন জিনভিত্তি 

স্কিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার-এর অভিন্ন জিনভিত্তি 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্কিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার চিকিৎসাবিজ্ঞানে দুই পৃথক মানসিক রোগ বলে গণ্য। কিন্তু নতুন এক বৃহৎ জিনভিত্তিক গবেষণা দেখাচ্ছে, এ দুটি অসুখের বংশগত ঝুঁকির মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। অর্থাৎ রোগের উপসর্গ ও নির্ণয় আলাদা হলেও নেপথ্যের কিছু জৈবিক প্রক্রিয়া হয়তো অভিন্ন।

এ গবেষণার বিবরণ নেচার পত্রিকায় বিস্তারিত ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ১৪টি মানসিক রোগে আক্রান্ত ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জিনগত তথ্যের সঙ্গে প্রায় ৫০ লক্ষ রোগমুক্ত মানুষের তথ্য তুলনা করা হয়। স্কিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, PTSD, অটিজম ও ADHD-সহ বিভিন্ন রোগের জিন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা পাঁচটি প্রধান অভিন্ন জিনগত গুচ্ছ শনাক্ত করেছেন। অর্থাৎ প্রতিটি রোগের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক জিনগত স্বাক্ষর নেই।

সবচেয়ে পোক্ত মিল পাওয়া যায় স্কিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারের মধ্যে। স্কিজোফ্রেনিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত জিন সংকেতের প্রায় ৭০ শতাংশ বাইপোলার ডিসঅর্ডারের সঙ্গেও যুক্ত। এই দুই রোগের জন্য একটি অভিন্ন schizophrenia-bipolar genetic factor শনাক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জিনগুলো বিশেষভাবে উত্তেজক নিউরনে সক্রিয়। ওইসব কোষ মস্তিষ্কের বিভিন্ন নিউরাল সার্কিটে সংকেত আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে এই ৭০ শতাংশ অভিন্নতা ব্যক্তিগতভাবে বাইপোলারে আক্রান্ত হওয়ার ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা বোঝায় না; এটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীতে দুই রোগের জিনগত সংকেতের পরস্পর সম্পর্ক নির্দেশ করে। একইভাবে, গবেষণা কিন্তু স্কিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলারকে একই রোগ বলছে না।

অন্যান্য রোগেও এমন সংযোগ দেখা গেছে—ডিপ্রেশন, উদ্বেগ ও PTSD-র মধ্যে এবং অটিজম ও ADHD-র মধ্যে অভিন্ন জিনগত ধাঁচ স্পষ্ট হয়েছে।

প্রচলিত রোগনির্ণয়ের পৃথক সীমারেখার আড়ালে একাধিক মানসিক রোগের অভিন্ন জৈবিক ভিত্তি থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এই পথগুলোকে নিশানা করে একাধিক রোগের জন্য নতুন চিকিৎসা কৌশল তৈরি করলে সুবিধা হবে।

সূত্র: Grotzinger et al., “Mapping the genetic landscape across 14 psychiatric disorders,” Nature, 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − ten =