স্কিজোফ্রেনিয়ার জন্য দায়ী মস্তিষ্ক-বর্তনী 

স্কিজোফ্রেনিয়ার জন্য দায়ী মস্তিষ্ক-বর্তনী 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৪ জুন, ২০২৬

স্কিজোফ্রেনিয়া অত্যন্ত জটিল এক মানসিক ব্যাধি, যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ হারাতে থাকে। রোগীরা অনেক সময় নতুন তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের ধারণা বদলাতে পারেন না, ফলে ভুল বিশ্বাস ও বিভ্রম আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এম আই টি-র গবেষকেরা এমন একটি জিনগত পরিবর্তনের সন্ধান পেয়েছেন, যা হয়তো এই সমস্যার সঙ্গে জড়িত। স্কিজোফ্রেনিয়ার সঙ্গে জিনগত কারণের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই জানা। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি ১ শতাংশ হলেও আক্রান্ত বাবা-মা বা ভাইবোন থাকলে তা বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশ হয়। অভিন্ন যমজের একজন আক্রান্ত হলে অন্যজনের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ। গবেষকেরা ২৫ হাজার স্কিজোফ্রেনিয়া রোগী ও ১ লক্ষ সুস্থ ব্যক্তির জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে grin2a নামের একটি পরিব্যক্ত জিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এই পরিব্যক্ত জিনটি মস্তিষ্কের এন এম ডি এ গ্রাহীকোষের অংশ তৈরি করে, যা স্নায়ুকোষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, এই পরিব্যক্ত জিনের প্রভাবে তারা পরিবেশ বদলালে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে স্বাভাবিক ইঁদুরের তুলনায় অনেক বেশি সময় নেয়। গবেষকদের মতে, স্কিজোফ্রেনিয়া রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। তারা পুরনো বিশ্বাসকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং নতুন তথ্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে পারেন না। আরও বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই জিনগত পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মস্তিষ্কের মেডিওডরসাল থ্যালামাস অঞ্চলে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। আশ্চর্যের বিষয়, অপ্টোজেনেটিক্স প্রযুক্তির সাহায্যে এই স্নায়ু-বর্তনী সক্রিয় করলে পরিবর্তিত ইঁদুরগুলির আচরণ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়। grin2a জিনের পরিবর্তন খুব কম সংখ্যক রোগীর মধ্যে দেখা গেলেও, এই গবেষণা স্কিজোফ্রেনিয়ার পেছনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই বর্তনীকে নিশানা করে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি বা ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে।

 

সূত্রঃ MIT ; June ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + 14 =