মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত কার্যক্রম বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা এই প্রথমবার একটি বিস্তৃত ডেটা-ভিত্তিক আণবিক মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ, সহায়ক গ্লিয়া কোষ, রক্তনালী, শক্তি উৎপাদন, রক্তপ্রবাহ ও স্নায়ু সংকেতের পারস্পরিক সম্পর্ক একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে ১৬,৮০০টিরও বেশি জৈবিক পারস্পরিক ক্রিয়াকে যুক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক মস্তিষ্কে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে স্নায়ুকোষের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে Na+/K+-ATPase নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস। এটি কোষের ভেতর-বাইরের সোডিয়াম-পটাশিয়াম ভারসাম্য রক্ষা করে এবং স্নায়ু সংকেত পরিবহনে সাহায্য করে। আরও দেখা গেছে, তরুণ মস্তিষ্কের তুলনায় বয়স্ক মস্তিষ্ক কম নমনীয় ও কম অভিযোজনক্ষম হয়। অর্থাৎ নতুন উদ্দীপনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া বা মস্তিষ্কের ক্ষয়ের পর নিজেকে পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতা, বয়স্কদের কমে যায়। এ কারণেই বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রংশর ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্লেষণে ESRRA নামের একটি জিন-নিয়ন্ত্রক উপাদানকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এটি বার্ধক্যজনিত নানা পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকেরা সম্ভাব্য কিছু প্রতিরোধমূলক কৌশলও বাতলেছেন। যেমন, মস্তিষ্কে NAD+ ও NADH-এর ভারসাম্য বাড়ানো, কিটোন বেটা-হাইড্রোক্সিবিউটারেট ও ল্যাকটেটের ব্যবহার বৃদ্ধি, Na+/K+-ATPase সক্রিয় করা এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম রাখা। এসব পদক্ষেপ মস্তিষ্কের শক্তি ব্যবস্থাকে আবার নমনীয় করতে সাহায্য করতে পারে। তাছাড়া অ্যাস্ট্রোসাইট নামে গ্লিয়া কোষগুলো বার্ধক্যে স্নায়ুকোষকে শক্তিগত স্থিতিশীলতা দিতে পারে। এতে গ্লিয়া কোষ শুধু সহায়ক নয়, বরং সুরক্ষামূলক ভূমিকাও রাখে। গবেষকেরা তাদের মডেলটি সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, যাতে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এটি ব্যবহার করে স্মৃতিভ্রংশ ও অন্যান্য স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধে নতুন পথ খুঁজে বের করতে পারেন।
সূত্র: Breakdown and repair of metabolism in the aging brain ; Frontiers; March, 2026
