হাঙর প্রজাতির অযৌন জনন!   

হাঙর প্রজাতির অযৌন জনন!   

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৮ মে, ২০২৬

খুব সম্প্রতি একটি চিতাবাঘের ন্যায় কালো কালো ছোপ যুক্ত /ডোরাকাটা হাঙরকে (লেপার্ড শার্ক) ঘিরে বিজ্ঞানীরা যে তথ্য পেয়েছেন, তা সত্যিই বিস্ময়জনক। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে থাকা একটি স্ত্রী লেপার্ড শার্ক, যার নাম লিওনি, জীবনের এক পর্যায়ে স্বাভাবিক যৌন প্রজননের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বহু বছর পুরুষ হাঙর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার পর সে আবার সন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে। সাধারণত অপত্য সৃষ্টি হয় স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের অবদানেই । কিন্তু পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই সন্তান জন্ম দেওয়ার এমন ক্ষমতা, যাকে বলে অযৌন জনন, প্রাণীজগতে একেবারেই বিরল ঘটনা নয়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, লিওনির নতুন সন্তানদের জন্ম হয়েছে “পার্থেনোজেনেসিস’’ নামের এক বিশেষ প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে কোনো পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াই ডিম নিষিক্ত হয়। অর্থাৎ, স্ত্রী-প্রাণীর অনিষিক্ত ডিম থেকেই ভ্রূণের বিকাশ ঘটে। জেনেটিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে লিওনির সন্তানদের শরীরে কেবল তার নিজের ডিএনএ-ই রয়েছে; সেখানে কোনো পুরুষ হাঙরের জিনগত অবদান নেই।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাধারণত পার্থেনোজেনেসিস দেখা যায় এমন প্রাণীদের মধ্যে, যারা আগে কখনও যৌন প্রজনন করেনি। কিন্তু লিওনি তার জীবনের এক পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবে পুরুষ সঙ্গীর সাথে মিলনে বংশবিস্তার করার পর পরে সম্পূর্ণভাবে অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়ায় চলে গেছে। সে নিজের প্রজনন কৌশলই বদলে ফেলেছে। গবেষকদের মতে, প্রাণীজগতের অভিযোজন ক্ষমতার এ এক অসাধারণ উদাহরণ।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, যখন কোনো স্ত্রী প্রাণী দীর্ঘ সময় পুরুষ সঙ্গী খুঁজে পায় না, তখন পার্থেনোজেনেসিস বংশবিস্তারের এক ধরনের জৈবিক বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে বিচ্ছিন্ন বা সংকটাপন্ন পরিবেশেও কোনো প্রজাতি অন্তত কিছুটা সময়ের জন্য হলেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। বিশেষ করে কঠোর সামুদ্রিক পরিবেশে এই ক্ষমতা কিছু প্রাণীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

তবে এই প্রক্রিয়ার একটি বড় সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেহেতু অপত্যেরা কেবল মায়ের জিন বহন করে, তাই তাদের জিন বৈচিত্র্য অনেক কম হয়। ফলে রোগ, পরিবেশগত পরিবর্তন বা নতুন হুমকির বিরুদ্ধে তারা কম যুঝতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পুরো প্রাণী প্রজাতির জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বর্তমানে হাঙর ছাড়াও সাপ, টিকটিকি, পাখি এবং রে মাছসহ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে পার্থেনোজেনেসিসের নজির পাওয়া গেছে। তবু এখনো বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি ঠিক কোন পরিস্থিতি বা জৈবিক সংকেত প্রাণীদের এই অদ্ভুত প্রজনন পদ্ধতিতে যেতে বাধ্য করে।

 

সূত্র: The University of Queensland – “Leonie the Queensland leopard shark is making history.”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 1 =