উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে চলছে ভয়াবহ দাবানলের প্রকোপ।এই প্রেক্ষাপটে ‘ফায়ার ক্লাউড’ বা পাইরোকিউমুলোনিম্বাস মেঘ নিয়ে বড় আকারের গবেষণা শুরু করেছে নাসা।কলোরাডো থেকে বিশেষ গবেষণা বিমান উড়িয়ে বিজ্ঞানীরা এই অগ্নিমেঘের ভেতর থেকে সরাসরি ধোঁয়ার নমুনা সংগ্রহ করবেন।অত্যন্ত তীব্র দাবানলের তাপে তৈরি এই বিশাল মেঘ নিজেই বাতাস, বজ্রপাত ও নতুন করে আগুনের জন্ম দিতে পারে।আরও উদ্বেগের বিষয়, এগুলো ধোঁয়াকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে দেয়।সেখানে তা দীর্ঘদিন ভেসে থেকে ওজোন স্তরের ক্ষতি, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। INSPYRE (Injected Smoke and Pyrocumulonimbus Experiment) নামে এই অভিযানে ১৫০-রও বেশি গবেষক অংশ নিচ্ছেন। নাসা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক রিসার্চ যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করছে।গবেষণা বিমানের পাশাপাশি উচ্চ-উড়ান জেট, মোবাইল রেডার ও আবহাওয়া বেলুন ব্যবহার করে অগ্নিমেঘের গঠন ও আচরণ বিশ্লেষণ করা হবে।বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশ বাড়ায় চরম দাবানলের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এর সঙ্গে পাইরোকিউমুলোনিম্বাস মেঘের সংখ্যাও বাড়ছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। গবেষকদের আশা, এই অভিযান থেকে পাওয়া তথ্য অগ্নিমেঘ কীভাবে পৃথিবীর জলবায়ু, আবহাওয়া ও ওজোন স্তরকে প্রভাবিত করে, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য দেবে। পশ্চিম উত্তর আমেরিকায় চলমান দাবানলের কারণে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অগ্নিমেঘ পাওয়া যাবে বলেও তারা আশাবাদী।
সূত্র: doi: https: //doi.org/10.1038/d41586-026-02351-5
