অদৃশ্য প্রজাপতি

অদৃশ্য প্রজাপতি

গ্রেটা ওটো। এক বিশেষ ধরনের প্রজাপতিদের নাম। মধ্য আমেরিকায় তাদের বাস। জীববিজ্ঞানী, বাস্তুবিদ এবং অন্য গবেষকদেরও কৌতূহলের শেষ নেই এই প্রজাপতিদের নিয়ে। কারণ তাদের ডানা যুগল। প্রজাপতির রঙীন, চোখধাঁধানো ডানা দেখেই মানুষ এবং বিশেষজ্ঞরা আকৃষ্ট হয়ে এসেছেন যুগ যুগ ধরে। কিন্তু গ্রেটা ওটোর যে ডানাই দেখা যায় না! কাচের মত স্বচ্ছ সেই ডানা এমনই যে তাকে চোখেই দেখা যায় না! তাই আপামর দৃষ্টির সামনে দিয়ে উড়ে যায় ডানাহীন এই প্রজাপতি!
কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। চোখে মাইক্রোস্কোপ লাগিয়ে বিস্ময়কর এই প্রজাপতিকে ধরে গবেষণাগারে বন্দি করে শুরু হয়ে গিয়েছে রহস্য উন্মোচনের। এ তো ‘কাচ-কাটা-হিরে’ নয়! একবারে ‘কাচ-কাটা-ডানা’! কী আছে ডানার ভেতর? রহস্য উন্মোচনে অসফল হননি বিজ্ঞানীরা। অধিকাংশেরই মত, ছদ্মবেশ ধরার জন্য যা যা উপাদান থাকার প্রয়োজন, তার সবই আছে গ্রেটা ওটোর ডানায়! কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বাস্তুবিদ জেমস বার্নেট বলেছেন, “খুব কঠিন কাজ এবং একইসঙ্গে সাঙ্ঘাতিক দক্ষতারও প্রয়োজন। যে প্রাণীদের স্বচ্ছ থাকার ক্ষমতা রয়েছে বা শরীরে প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে নিজেদের অদৃশ্য করে রাখার মতো তারা যে কোনও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে দিতে পারে।” অনেকটা গিরগিটির মতো। অ্যারন পোমেরাঞ্জ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী। পেরুর জঙ্গলে একটি বিজ্ঞানীদের দলের সঙ্গে তিনিও কাজ করছিলেন গ্রেটা ওটোর কাচের মত পর্দার রহস্যভেদের গবেষণায়। তিনি যতটা বিস্মিত, ততটাই মুগ্ধ। মাইক্রোস্কোপ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা এই বিজ্ঞানীরা দেখে গিয়েছেন গ্রেটা ওটোর ডানাযুগল। কী পেয়েছেন তারা? একটা পর্দা যার এপাশ-ওপাশ দেখা যায়! সেই পর্দাটির মধ্যে রয়েছে চোখে দেখা যায় না এরকম সরু সরু খাঁজকাটা, পাতার মত আঁশ। মাইক্রোস্কোপ আলোতে রেখে গ্রেটা ওটোর ‘আপাত অদৃশ্য’ ডানার দিকে তাকালে ৮০ শতাংশ দেখা যায়। আর একটু অন্ধকার হয়ে গেলে? সেরকম পরিবেশে মাইক্রোস্কোপ দিয়েই ওই ডানার ২ শতাংশ দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এছাড়া আরও দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। ওই অদৃশ্য পর্দার ভেতর ছিদ্র রয়েছে, কিন্তু সেগুলো মোমের মতো ক্ষুদ্রতম সব ছিদ্র! দিনের বেলায় গ্রেটা ওটো যখন উড়ে বেড়ায়, তার ওই ‘আপাত অদৃশ্য’ ডানা থেকে মাত্র দুই শতাংশ আলো প্রতিফলিত হয়! বিজ্ঞানীদের মনে হয়েছে মোমের মতো শতকোটি ওই ছিদ্রগুলোই মূল কারণ গ্রেটা ওটোর আলোতে থেকেও ছায়ার মতো পরিবেশে বিচরণ করতে পারার।
পোমেরাঞ্জ তাঁর গবেষণার শেষে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন উৎসাহীদের জন্য। গ্রেটা ওটোর আপাত অদৃশ্য ডানায় থাকা ওই মোমের মতো অসংখ্য ছিদ্রগুলো দেখে ক্যামেরা লেন্স, সোলার প্যানেল এবং ওই ধরণের ডিভাইস যাঁরা তৈরি করেন তাঁরা উৎসাহী হতে পারেন ভবিষ্যতে গ্রেটা ওটোকে অনুসরণ করতে!