অনুসন্ধিৎসা জীববৈচিত্রের চালিকা শক্তি

অনুসন্ধিৎসা জীববৈচিত্রের চালিকা শক্তি

প্রকৃতিতে অনুসন্ধান বেশ বিস্ময়কর এক বিষয়। অন্বেষণমূলক আচরণ স্তন্যপায়ী থেকে মাকড়সা সব প্রাণীর বৈশিষ্ট্য। এতে অজানা বিপদের সম্ভাবনা যেমন থাকে তেমনি থাকে পূর্বে অজানা এমন সুযোগ উন্মোচনের সম্ভাবনা। সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন অধ্যয়ন অনুসারে, প্রাণীজগতে জীববৈচিত্র্যের পিছনে অন্বেষণ বা অনুসন্ধান মৌলিক এক চালিকা শক্তি হতে পারে। গবেষকদের মতে এটা প্রজাতি বিকাশের ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিতে পারে কিন্তু এই ধরনের অভিযোজিত আচরণগত বৈচিত্রের পিছনে জেনেটিক কারণ ভালোভাবে বোঝা যায় নি। অনুসন্ধান প্রাণীর স্বতন্ত্র আচরণগুলো অনুপ্রাণিত করতে সাহায্য করে যা নতুন প্রজাতির বিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা কেস স্টাডি হিসাবে সিচলিড পরিবারের নানা প্রজাতি ব্যবহার করেছেন যে কীভাবে অনুসন্ধানমূলক আচরণ থেকে বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র এই মাছের অভিযোজনকে প্রভাবিত করতে পারে। বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী ক্যারোলিন সোমার-ট্রেম্বোর নেতৃত্বে একটা দল এই গবেষণা চালিয়েছে। এই গবেষণায় জাম্বিয়ার টাঙ্গানিকা হ্রদের দক্ষিণ তীরে বসবাসকারী ৫৭টা বিভিন্ন প্রজাতির সিচলিড মাছের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে।
সিচলিড মাছের পরিবার তাদের অজস্র প্রজাতির জন্য বিখ্যাত, গত ৫ কোটি বছরে অবিশ্বাস্যভাবে এদের প্রজাতি বিকশিত হয়েছে। গত ১ লক্ষ বছরে পূর্ব আফ্রিকায় বিভিন্ন পরিবেশগত বাস্তুতন্ত্রে খাপ খাইয়ে নিয়ে বসবাসের জন্য আনুমানিক ২০০০ প্রজাতির সিচলিড দেখা গেছে। অন্যান্য পূর্ব আফ্রিকান হ্রদের সিচলিডের মতো, টাঙ্গানিকা হ্রদে বসবাসকারীরা সিচিলিড মাছের অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় শরীরের আকার, রঙ এবং খাওয়ার অভ্যাস দেখা গেছে। এই অভিযোজন সিচলিড পরিবারের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমাতে সাহায্য করেছে, সীমিত সংস্থান নিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের পরিবর্তে তারা নতুন বাস্তুতন্ত্রের সাথে মানিয়ে নিয়েছে।
টাঙ্গানিকা হ্রদ থেকে প্রায় ৭০০ মাছ ধরে, গবেষণাগারের পুকুরে খানিকক্ষণের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর আবার তাদের মূল বাসস্থান, টাঙ্গানিকা হ্রদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গবেষকরা সিচলিড প্রজাতির মাছের অনুসন্ধানমূলক আচরণে বড় পার্থক্য লক্ষ করেছিলেন। তীরের কাছাকাছি যে সমস্ত মোটা চেহারার সিচিলিড মাছ পাওয়া যায়, তাদের অনুসন্ধান প্রবণতা হ্রদের মাঝে পাওয়া সরু লম্বা প্রজাতির মাছের তুলনায় বেশি। জিনগতভাবে তারা দেখেছিলেন, যে প্রজাতিভেদে মাছের জিনোমে পার্থক্য আছে। যে মাছের জিনোমে থায়ামিন রয়েছে, তাদের অনুসন্ধান প্রবণতা, একই স্থানে সাইটোসিন থাকা অন্য মাছের তুলনায় বেশি। মাছের জেনেটিক মিউটেশন করে তারা দেখেছেন মাছের অনুসন্ধান প্রকৃতি বাড়ছে। সোমার-ট্রেম্বো জানিয়েছেন, তারা এটা জানতে আগ্রহী যে কীভাবে ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য প্রাণীজগতের জীববৈচিত্র্যের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।