অ্যাটলান্টিক উপকূলে ম্যানিলা ক্ল্যাম ঝিনুক

অ্যাটলান্টিক উপকূলে ম্যানিলা ক্ল্যাম ঝিনুক

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৩ আগষ্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক উপকূলে এই প্রথম গবেষকরা বংশবিস্তারে সফল ম্যানিলা ক্ল্যাম (Ruditapes philippinarum)-এর স্থায়ী সদস্যসংখ্যার সন্ধান পেয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট, এমআইটি সি গ্রান্ট এবং সেন্টার ফর কোস্টাল স্টাডিজ পরিচালিত এই গবেষণার বিবরণ বায়োলজিক্যাল ইনভেসনস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি একটি বিরল বৈজ্ঞানিক মুহূর্ত, কারণ কোনো আগ্রাসী প্রজাতি নতুন অঞ্চলে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক ধাপটিকে এত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করার এমন সুযোগ খুব কমই মেলে।

ম্যানিলা ক্ল্যামের আদি নিবাস রাশিয়ার সাখালিন দ্বীপপুঞ্জ থেকে জাপান ও দক্ষিণ চীনের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই মানুষের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ঝিনুক উত্তর আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাওয়ার উপযোগী শামুকজাতীয় প্রাণী। বিশ্বে এর বাজার মূল্য বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় ঝিনুকের সঙ্গে খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য প্রতিযোগিতা করে, ঘনিষ্ঠ প্রজাতির সঙ্গে সংকরায়ন ঘটাতে পারে এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পরিবর্তন করতে সক্ষম।

এই আবিষ্কারের সূচনা হয় একটি সাধারণ মোবাইল টেক্সটের বার্তা থেকে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে বোস্টন হারবারের স্পেকট্যাকল আইল্যান্ডে গবেষণা কর্মশালার সময় এক তরুণ গবেষক এল ফারনিকিস হার্টশর্ন একটি অচেনা ঝিনুকের ছবি পাঠান। তিনি সন্দেহ করেছিলেন, এটি হয়তো ম্যানিলা ক্ল্যাম। এরপর গবেষক অ্যালি পুটনাম ও ক্যারোলিনা বাস্তিদাস উপকূলে অনুসন্ধান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক খালি খোলা খুঁজে পান। একই সময়ে কেপ কড এলাকায় স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বহুদিন ধরে এক প্রকার অদ্ভুত ঝিনুক দেখতে পাওয়ার খবর দিচ্ছিলেন। পাকাপোক্ত প্রমাণ আসে যখন বিজ্ঞানীরা বোস্টন ও কুইন্সির উপকূলে মাটি ছেঁকে অসংখ্য জীবিত কিশোর ম্যানিলা ক্ল্যাম উদ্ধার করেন। পাশাপাশি কেপ কডে ডিম উৎপাদনকারী স্ত্রী ক্ল্যামেরও সন্ধান মেলে। এসব তথ্য নিশ্চিত করে যে, প্রজাতিটি শুধু বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থিত নয়, সফলভাবে প্রজনন করে নতুন প্রজন্ম তৈরি করছে এবং উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক উপকূলে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে এই আগ্রাসনের প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। একদিকে ম্যানিলা ক্ল্যাম স্থানীয় ঝিনুকের জন্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে এবং বাণিজ্যিক শেলফিশ শিল্পের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে এটি সামুদ্রিক পাখি, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্য নতুন খাদ্য উৎস হয়ে উঠতে পারে, এমনকি স্থানীয় কিছু ঝিনুকের ওপর শিকারি প্রাণীর চাপও কমাতে পারে।

 

গবেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এই প্রজাতির ব্যাপ্তি বিস্তৃতি কত দ্রুত ঘটছে, কীভাবে এটি এই অঞ্চলে এল এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে এর দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কী হবে তা বোঝা। ভবিষ্যতের গবেষণাই নির্ধারণ করবে, ম্যানিলা ক্ল্যাম উত্তর-পূর্ব আমেরিকার উপকূলীয় পরিবেশে একটি সাধারণ নতুন সদস্য হয়ে থাকবে, নাকি এটি বাস্তুতন্ত্রের ওপর গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

 

সূত্র: Biological Invasions, 4 July 2026

DOI: 10.1007/s10530-026-03861-z

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − seventeen =