‘আইনস্টাইনের উড়ন্ত দর্পণ’

‘আইনস্টাইনের উড়ন্ত দর্পণ’

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৪ মে, ২০২৬

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট-এর গবেষকদের একটি দল অত্যন্ত উচ্চ-তীব্রতা সম্পন্ন আলোকরশ্মি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য, কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স বা QED নামে পরিচিত তত্ত্বকে আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করা। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, অত্যন্ত তীব্র আলো শূন্যস্থানের সঙ্গে ক্রিয়া করে পদার্থের রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ, আলো থেকেই কণা তৈরি হওয়া সম্ভব। সমস্যা হল, এমন পরীক্ষা চালাতে যে মাত্রার শক্তিশালী আলো দরকার, তা বর্তমানে ব্যবহৃত সবচেয়ে শক্তিশালী লেজারের তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ বেশি তীব্র। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই নতুন এক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনার্শিয়াল ফিউশন বিশেষজ্ঞ পিটার নরিস-এর নেতৃত্বে দলটি যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লেজার ফেসিলিটির জেমিনি লেজার ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট (XUV) ও এক্স-রে ফোটন তৈরি করেছে। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা অতি অল্প সময়ের জন্য অত্যন্ত উচ্চ-কম্পাঙ্কের লেজার পালস একটি কঠিন কাচের লক্ষ্যবস্তুর উপর নিক্ষেপ করেন। এর ফলে একটি প্লাজমা তৈরি হয়, যার আচরণ চলমান আয়নার মতো। পরে অন্য লেজার এসে সেই প্লাজমায় আঘাত করলে সেটি এমনভাবে প্রতিফলিত হয়, যেন আলো প্রায় আলোর গতিতে এগিয়ে আসা এক আয়নায় ধাক্কা খাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা ‘আইনস্টাইনের উড়ন্ত দর্পণ’ বলছেন। এর ফলে প্রতিফলিত আলো আরও বেশি সংকুচিত হয় এবং তার তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। এরপর গবেষকরা ‘কোহেরেন্ট হারমোনিক ফোকাস’ নামে একটি কৌশল ব্যবহার করে আলোকে মাত্র কয়েক ন্যানোমিটার চওড়া একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত করেন। যদিও তাঁরা সরাসরি আলোর তীব্রতা মাপতে পারেননি, তাত্ত্বিক হিসাব বলছে, লেজারের তীব্রতা সম্ভবত প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ১০^২৩ ওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবিন টিমিস জানান, তাঁদের তৈরি XUV রশ্মির শক্তি আগের পরীক্ষাগুলির তুলনায় হাজার গুণেরও বেশি উজ্জ্বল ছিল। তাঁদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি “শুইঙ্গার লিমিট” অতিক্রম করতে পারবে। এটি এমন একটি তাত্ত্বিক সীমা, যেখানে শূন্যস্থান থেকেই কণা সৃষ্টি হওয়ার মতো কোয়ান্টাম ঘটনা সরাসরি দেখা যেতে পারে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি অতিদ্রুত জৈব ও ভৌত চিত্রগ্রহণ, উন্নত ফোটোলিথোগ্রাফি এবং নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে গবেষকরা আরও কিছু পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এই নতুন ধরনের আলোকরশ্মিকে আরও নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সরাসরি তার তীব্রতা মাপা সম্ভব হবে।

সূত্র: interestingengineering; May , 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =