আগ্নেয়গিরিতে প্রাণেরও সৃষ্টি হয়!

আগ্নেয়গিরিতে প্রাণেরও সৃষ্টি হয়!

আগ্নেয়গিরি মানে কি শুধুই ধ্বংস? বিজ্ঞানীদের একাংশ সেটা মানছেন না! তাদের দাবি পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টির পেছনে আগ্নেয়গিরির ভূমিকা কম নয়! একটি অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পুরনো বাস্তুতন্ত্র আবার নতুন বাস্তুতন্ত্রের জন্ম দেয়। আগ্নেয়গিরির লাভার মধ্যেই কীভাবে জীবনের বীজ বপণ শুরু হয় সেই নিয়ে গবেষণা করছেন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সোলাঞ্জি দোহামেল। গত একবছর ধরে তার গবেষণা চলছে। সম্প্রতি আইসল্যান্ডের একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। সোলাঞ্জি সেখানে গিয়েছিলেন। এই অগ্ন্যুৎপাত নিয়ে গবেষণা করে সোলাঞ্জি নিজেই মুগ্ধ এবং বিস্মিতও। সম্প্রতি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোলাঞ্জি জানিয়েছেন, পৃথিবীর শিলাস্তরের ৮০ শতাংশই তৈরি হয়েছে আগ্নেয় বিস্ফোরণ এবং অগ্ন্যুৎপাতের ফলে। আর শিলাস্তর ছাড়া বাস্তুতন্ত্রকে কল্পনাই করা যায় না। সোলাঞ্জি আরও জানিয়েছেন পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের পেছনে আগ্নেয়গিরির ভূমিকা কিছু কম নয়। কিন্তু লাভার উত্তাপে ছাই হয়ে যাওয়া কোনও অঞ্চলে কীভাবে আবার প্রাণের সূত্রপাত হয় তার সম্পূর্ণ কারণ বিজ্ঞানীরা এখনও জানতে পারেননি। সোলাঞ্জির গবেষণা সেই হদিশই দেওয়ার চেষ্টা করছে। সোলাঞ্জির বিশ্লেষণ, অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভার সঙ্গে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মত খনিজ পদার্থের নির্গমন হয়। কিন্তু প্রাণ ধারণের জন্য যে নাইট্রোজেনের প্রয়োজন হয় সেটা লাভায় থাকে না। সোলাঞ্জি এমন এক জীবের সন্ধান করে পেয়েছেন যা বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন নিয়ে শিলাস্তরে গেঁথে দেয়। তার নাম লিচেন! শৈবাল আর ছত্রাকের মাঝামাঝি এই উদ্ভিদ তার রং লাগিয়ে দেয় লাভায় পুড়ে যাওয়া উপত্যকাকে। শুরু হয় প্রাণের ফিরে আসা।