বিশ্বজুড়ে আগ্রাসী বহিরাগত উদ্ভিদ দমনে এখনও মূল ভরসা রাসায়নিক আগাছানাশক। তবে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হয়ত জৈব নিয়ন্ত্রণ (বায়োকন্ট্রোল), অথচ সেটিই সবচেয়ে কম ব্যবহ্যত। নিউ ক্যাসেল ইউনিভার্সিটি-এর গবেষক লিজি কিনের নেতৃত্বে ২৬টি দেশের ১৯২টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ৬২৩ রকমের বিভিন্ন আগ্রাসী উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ব্যবহৃত সব পদ্ধতির মধ্যে ৪১ শতাংশই রাসায়নিক নাশক। এর মধ্যে গ্লাইফোসেট, ট্রাইক্লোপির ও ইমাজাপাইর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এসব রাসায়নিক আগ্রাসী উদ্ভিদের পাশাপাশি অনেক সময় স্থানীয় গাছের চারাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে, যেখানে জৈব নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফলতাও দেখা গেছে। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট পোকা, ছত্রাক বা দেশীয় উদ্ভিদ ব্যবহার করে আগ্রাসী উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবু বিশ্বজুড়ে মাত্র ৯টি আগ্রাসী উদ্ভিদের বিরুদ্ধে এ পদ্ধতি প্রয়োগের নজির রয়েছে। আসলে জৈব নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হলে দীর্ঘ গবেষণা, কঠোর নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং বিপুল ব্যয়ের প্রয়োজন। তাই বন ব্যবস্থাপকরা এখনও রাসায়নিক পদ্ধতির উপরই বেশি নির্ভর করছেন। এছাড়া বহু বছরের প্রচলিত ব্যবহারের কারণেও বিকল্প পদ্ধতির উন্নয়ন ধীরগতি। আসলে আগ্রাসী উদ্ভিদ দমনে একক কোনো সমাধান নেই। কোন পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা উদ্ভিদের ধরন, স্থানীয় পরিবেশ ও সময়ের উপর নির্ভর করে। তাই ভবিষ্যতে রাসায়নিকের পাশাপাশি জৈব ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সূত্র: Journal of Applied Ecology ; July ; 2026
