আজকাল আবহাওয়ার খবর মানেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট। আধুনিক এআই সিস্টেম, যেমন গ্রাফকাস্ট বা পাঙ্গু ওয়েদার চটজলদি হিসেব কষে বলে দিচ্ছে আগামী ক’দিনে বৃষ্টি হবে কি না, তাপমাত্রা কত উঠবে। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো আমাদের চেনা পুরনো পদ্ধতির চেয়ে বেশি নির্ভুলও হচ্ছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, যখন কথা ওঠে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, হিমশীতল ঠান্ডা বা ঝোড়ো হাওয়ার মতো চরম আবহাওয়ার, তখন কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে তৈরি পুরনো মডেলগুলোই বেশি এগিয়ে। বিজ্ঞানীরা এআই-ভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন অত্যাধুনিক পদার্থবিজ্ঞান-নির্ভর মডেল ‘হাই রেজোলিউশন ফোরকাস্ট’-এর। ২০১৮ থেকে ২০২০- এই তিন বছরে ঘটে যাওয়া নানা চরম আবহাওয়ার ঘটনা নিয়ে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, কে বাস্তবের কাছাকাছি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে? ফলাফল বেশ চোখে পড়ার মতো। সাধারণ দিনের আবহাওয়া, মানে অল্প গরম, হালকা বৃষ্টি, এসব ক্ষেত্রে এআই খুবই দ্রুত এবং অনেক সময় বেশ নিখুঁত। কিন্তু যখন পরিস্থিতি চরমে ওঠে, তখন এআই যেন একটু ‘কোমল’ হয়ে যায়! বাস্তবে যেখানে তাপমাত্রা আকাশছোঁয়া, সেখানে এআই কিছুটা কম দেখায়। অর্থাৎ, যত বড় বিপদ, ভুলের সম্ভাবনা তত বেশি। কেন এমন হয়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর কারণ লুকিয়ে আছে এআই-এর শেখার ধরনে। এআই মূলত অতীতের তথ্য দেখে শেখে। ফলে চরম ঘটনা খুব বেশি ঘটে থাকলে, বা ডেটায় না থাকলে, সেগুলো বোঝার ক্ষমতা এআই-এর কম থাকে। অন্যদিকে, পদার্থবিজ্ঞানের মডেলগুলো প্রকৃতির একেবারে যেসব মৌলিক নিয়ম – তাপ, চাপ, বাতাসের গতিবিদ্যা- এসব মেনে হিসেব করে। তাই আগে না-দেখা পরিস্থিতিও তারা অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে ধরতে পারে। এখন প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এই অবস্থায় যদি পূর্বাভাস ঠিক না হয়, তাহলে মানুষের জীবন, চাষবাস, শহরের পরিকাঠামো সবই ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই গবেষকদের পরামর্শ স্পষ্ট, শুধু এআই-এর উপর ভরসা করলেই চলবে না। বরং দরকার দুই জগতের সেরা জিনিসকে একসঙ্গে ব্যবহার করা। অর্থাৎ, এআই-এর দ্রুততা আর পদার্থবিজ্ঞানের মডেলের নির্ভরযোগ্যতা, দুই মিলিয়ে তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে কার্যকর পূর্বাভাস ব্যবস্থা।
সূত্র: Theory of everything; May ; 2026.
