উদ্ভিদজাত খাবার ও ধমনী

উদ্ভিদজাত খাবার ও ধমনী

বিশ্বায়ন আমূল বদলে দিয়েছে আমাদের খাদ্যাভ্যাস। যা প্রতিনিয়ত দুর্বল করে দিচ্ছে ধমনীগুলিকে। যার নিকট ফল যখনতখন হার্ট অ্যাটাক। এই বিপদ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে মার্কিন মুলুকে একটি গবেষণা চলছে ৩০ বছর ধরে। সেই গবেষণার ফল ঘোষণা করে গবেষকদের দাবি, সেদ্ধ করা পশুজাত খাবার কমিয়ে তার বদলে উদ্ভিদজাত খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে ধমনীর স্বাস্থ্য ফেরানো সম্ভব। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েসান -এর জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণস্বাস্থ্যের গবেষক ইউনি চোই এবং তাঁর সঙ্গীরা প্রকাশ করেছেন তাঁদের পরীক্ষার ফলাফল। ১৯৮৫-৮৬ সালে ৪ হাজার ৯৪৬ জন ১৮-৩০ বছর বয়সী মানুষকে নিয়ে শুরু হয় পরীক্ষা। তাঁদের মধ্যে শতকরা ৫৪.৯ ভাগ মহিলা। ১৯৮৭-৮৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত মোট আটবার এই অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যতালিকার তথ্যের ভিত্তিতে ডায়েট স্কোর তৈরি করা হয়। গবেষণার গোড়াতে, সাত বছরের মাথায় ও কুড়ি বছরের শেষে, খাদ্যাভাসের ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের ৪৬টি বিভাগে ভাগ করা হয়। তাঁদের খাদ্যাভাসের নিরিখে তৈরি করা হয় ডায়েট স্কোর। প্রথম সারির কুড়ি শতাংশ স্কোরাররা ফলমূল, সবজি, দানাশস্য, বাদাম ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খেয়েছেন এবং পশুজ খাদ্য কম খেয়েছেন। গবেষণার শেষে মাঝবয়সে তাদের ধমনীজনিত অসুখ কমেছে শতকরা ৫২ ভাগ। গবেষণার সপ্তম থেকে বিশতম বছরে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী যারা সবজি, ফলমূল খাওয়া বাড়িয়ে পশুজ খাদ্য কমিয়েছেন, তাঁদের ধমনীজনিত অসুখ কমেছে শতকরা ৬১ ভাগ।