বিবর্তনের ইতিহাসে কাঁকড়ার মতো শরীরের গঠন ডেকাপড প্রাণীগোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখায় স্বাধীনভাবে একাধিকবার তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে বলা হয় কার্সিনাইজেশন। অর্থাৎ ভিন্ন বংশের প্রাণীরাও সময়ের সঙ্গে কাঁকড়ার মতো চেহারা পেয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, কাঁকড়ার যেটা সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য, পাশের দিকে চলা, সেটা সম্ভবত একবারই উদ্ভূত হয়েছে। প্রকৃত কাঁকড়ারা মূলত ব্র্যাকিউরা গোষ্ঠীর অন্তর্গত। এদের বেশিরভাগই পাশের দিকে চলে, যদিও কিছু প্রজাতি এখনও সামনে বা পেছনে চলতে বেশি স্বচ্ছন্দ। এই রহস্য জানার জন্য গবেষকেরা ৫০টি প্রজাতির কাঁকড়ার চলাফেরা পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, ৩৫টি প্রজাতি পাশের দিকে চলছে। আর ১৫টি সামনে বা পেছনে। পরে এই তথ্য বংশতালিকার সঙ্গে মিলিয়ে জানা যায়, পাশের দিকে চলার এই ক্ষমতা একবারই তৈরি হয়েছিল। তাও এমন এক পূর্বপুরুষ থেকে যে কিনা সামনের দিকেই হাঁটত। শরীরের আকৃতি বদলানো, তুলনায় সহজ হলেও আচরণ বদলানো অনেক কঠিন। কারণ পাশে চলা শুধু পায়ের দিক বদলানো নয়, এতে গর্ত খোঁড়া, খাবার সংগ্রহ বা সঙ্গী খোঁজা প্রভৃতি কাজেও প্রভাব পড়তে পারে। আরও জানা গেছে, এই ক্ষমতা প্রায় ২০ কোটি বছর আগে ট্রায়াসিক-জুরাসিক মহাবিলুপ্তির পর তৈরি হয়। তখন বহু পরিবেশগত জায়গা খালি হয়ে গিয়েছিল, আর কাঁকড়ারা দ্রুত সেখানে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণা বলছে, বিবর্তন শুধু শরীরের নয়, আচরণেরও কাহিনী। একই চেহারা বারবার ফিরতে পারে, কিন্তু বিশেষ চলার কৌশল কোটি বছরে একবারই জন্ম নেয়।
সূত্র: Nautilus Magazine; April; 2026
